1. newsbijoy.bd@gmail.com : Faruk Hossaun : Faruk Hossaun
  2. info@newsbijoy.com : admin2022 :
  3. bashore88@gmail.com : newsbijoy22 :
হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেতে শুরু করেছে সাতদরগাহ নেছারিয়া কামিল (এম এ) মাদরাসা » NewsBijoy A Online Newspaper
শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৪:৩৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম:-
এখন থেকে নিউজ বিজয়ের সকল সংবাদ পেতে newsbijoy24.com ভিজিট করুন।

Up to BDT 150 Cashback on New Connection

হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেতে শুরু করেছে সাতদরগাহ নেছারিয়া কামিল (এম এ) মাদরাসা

এম এইচ শাহীন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
  • প্রকাশিত সময়: রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২
Sep 025 4
print news

উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম ধর্মীয় একটি বিদ্যাপীঠের নাম সাতদরগাহ নেছারিয়া কামিল (এম এ )মাদরাসা। ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিতে ১৯৪২ সালে কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার নিভূত পল্লী সাতদরগাহ গ্রামে আব্দুন্নাছির পীর সাহেব কেবলা(রঃ )’র ঐকান্তিক শ্রম ও প্রচেষ্টায় স্হাপিত করেন ইসলামিক এই বিদ্যাপীঠটি।তৈরি হয়েছেন হাজারো আলেম,মুফতি,মোহাদ্দেছ,মুফাচ্ছির,বুজুরগান ও শিক্ষক। বিদ্যাপিঠটির প্রতিষ্ঠাতা আব্দুন্নাছির পীর সাহেব তাঁর জীবদ্দশায় মাদরাসাটিকে নিজের সন্তানতুল্য বলে পরিচয় দিতেন। ফলে অল্প দিনের মধ্যে পীর সাহেবের প্রচেষ্টা ইসলাম প্রিয় মানুষজনের দানে মাদরাসাটি উত্তরবঙ্গে মধ্যে বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি পায়। এক পর্যায়ে আল্লাহ্ ভীরু ধর্মপ্রান মানুষ জনের দানে মাদরাসার সম্পত্তির পরিমাণ ১শ একরেরো অধিকে পরিণত হয়। শুধু তাই নয় ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিরা তাদের মনস্কামনা পূরণের জন্য এই প্রতিষ্ঠানের নামে অকাতরে দান করেন যা এখনো অব্যাহত আছে।

প্রতিষ্ঠানটি সরকারি অনুদান প্রাপ্তির পূর্বে মহীরুপে পরিণত হয়েছিল।সেই বিদ্যাপীঠটি আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।
জানা গেছে পীর সাহেব কেবলার জীবদ্দশায় ১লা আগষ্ট ১৯৮১ সালে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন মাওঃ মতিউর রহমান। ১৯৯১ সালে অধ্যক্ষ মতিউর রহমান ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী হিসেবে মিনার প্রতীক নিয়ে জাতীয় সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করে হেরে যান এরপর শুরু হয় দলাদলি।ধ্বংসের দিকে যেতে থাকে সুনামধন্য প্রতিষ্ঠানটি।২০০১ সালে অধ্যক্ষ মতিউর রহমান জাতীয় পার্টীর লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। অধ্যক্ষ মতিউর রহমান (এমপি) হওয়ায় তিনি সহ তার শ্যালক মোহেব্বুল হাসান করিমীর অত্যাচারের মাত্রা আরো বেড়ে যায়।বিতাড়িত হন খ্যাতিয়মান শিক্ষক মাওঃ মোহাম্মদ আলী, মাওঃ লুৎফর রহমান, মাওঃ মুহসিন আলী, মাওঃ আঃ কুদ্দুছ ও পীর সাহেব কেবলা(রঃ)সহ মাদরাসার হিতাকাংখি ও শুভাকাঙ্খীরা।এ ক্ষোভে পীর সাহেব উলিপুরে এসে তার ছেলে মমতাজুল হাসান করিমীর বাসায় অবস্থান করা কালে মৃত্যু বরন করেন।এরপর অবস্থা আরো জটিল আকার ধারণ করে। অধ্যক্ষ মতিউর রহমান জাতীয় সংসদ সদস্যের প্রভাব খাটিয়ে মাদরাসার সম্পত্তি বিক্রি শুরু করেন। দেখতে দেখতে মাদরাসার নিজ নামীয় ৫৪ একর ৩৭ শতক জমি বিক্রি করে সমুদয় টাকা আত্নসাৎ করেন। এদিকে ২০০৮ সালে ৩১ আগষ্ট অধ্যক্ষ মাওঃ মতিয়ার রহমান (সাবেক সংসদ সদস্য) অধ্যক্ষ পদ হতে অবসর গ্রহণ করেন। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করেন মাওঃ মোশাররফ হোসেন । প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কেলেঙ্কারীর অভিযোগে তাঁকে অব্যাহতি দিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে মাওঃ আঃ রাজ্জাকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। বিভিন্ন কারণে তিনি ও দায়ভার ছেড়ে দেন।অতঃপর মাওঃ ফখরুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। সবই চলছিলো নির্ধারিত ছক কষে। নির্ধারিত ছকে পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিজেকে অধ্যক্ষ হিসেবে জিতিয়ে আনতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন।নিয়ম অনুযায়ী অধ্যক্ষ পদপ্রার্থী হওয়ায় তাঁকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদ ছাড়তে হলো। জানা গেছে উক্ত অধ্যক্ষ পদে চাকুরি পেতে চতুর ওই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ৪ জন প্রার্থীর মধ্যে মাওঃ আবুল কাশেমকে প্রক্সি প্রার্থী হিসেবে নিয়ে আসেন ওই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ।কিন্তু বিধি বাম।নিয়ম অনুযায়ী নিয়োগ পরীক্ষায় ৪ জন প্রার্থী মধ্যে পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করনে, বর্তমান অধ্যক্ষ মাওঃ আবুল কাশেম। ২য় এবং ৩য় হন রংপুরের দুইজন প্রার্থী, ৪র্থ স্হানে থাকেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওঃ ফখরুল ইসলাম । উল্লেখ্য নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ গ্রহণকারী ৪ জন প্রার্থীর মধ্যে শিক্ষা সনদে ৩ জন প্রার্থীর ২ টিতে প্রথম শ্রেণি, বর্তমান অধ্যক্ষের ছিলো ৩ টিতে প্রথম শ্রেণি। গত ৭ই মার্চ ২০১২ সালে বর্তমান অধ্যক্ষ মাওঃ আবুল কাশেম প্রতিষ্ঠানটিতে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন।

এতে মাওঃমতিয়ার রহমান ( সাবেক অধ্যক্ষ ও সাবেক এমপি) ক্ষিপ্ত হয়ে এই নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে সাতদরগা বালিকা মাদরাসার শিক্ষক সাবেক অধ্যক্ষ’র শ্যালক মাওঃ মুহেববুল হাসান করিমীকে দিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন যার নং(অন্য ৭৫/২০১২)। এটাই ছিলো বৃহৎ ঐতিহ্যবাহী সাতদরগাহ নেছারিয়া কামিল (এম এ)মাদরাসার বিরুদ্ধে প্রথম মামলা। এরপর সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফখরুল ইসলাম,মাওঃ মোশাররফ হোসেন ও প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বাংলা প্রভাষক মাইদুল ইসলাম প্রতিষ্ঠানের গভার্ণিং বডির বিরুদ্ধে এক এক করে আদালতে ১২টি মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালতে মামলাগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় খারিজ করে দেয়। এলাকার সর্ব সাধারণ মানুষ মিছিল সহকারে নব নিযুক্ত অধ্যক্ষকে মাদরাসা অফিসে বসিয়ে দেন।অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রাপ্তির পূর্বেই ২০১০-২০১২ ইং সালে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী আব্দুন্নাছির পীর সাহেব কেবলা(রঃ) ছেলে মাওঃ মমতাজুল হাসান করিমী প্রতিষ্ঠানের হৃত সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের জন্য কমিটি গঠণ সহ ইসলামিক ইউনিভার্সিটি কুষ্টিয়ায় যোগাযোগ করেন। তাঁর প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানের হৃত সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের পথ অনেকটা এগিয়ে যায়। ওই সময়ে ফাজিল কামিল মাদরাসা নিয়ন্ত্রণকারী ইসলামিক ইউনিভার্সিটি কুষ্টিয়ার প্রতিনিধিদল প্রতিষ্ঠানের ৫৪ একর ৩৭ শতক জমি বেআইনী ভাবে হস্তান্তরিত হয়েছে বলে মন্তব্য করত জেলা প্রশাসক কুড়িগ্রামকে তা পুনরুদ্ধারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদেশ দেন। উল্লেখ্য ২০১২ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি কুষ্টিয়ার প্রতিনিধিদল প্রতিষ্ঠানের তদন্তে আসার পূর্বে সাবেক অধ্যক্ষ মাওঃ মতিউর রহমান মাদরাসা অফিসে রক্ষিত মাদরাসার যাবতীয় কাগজপত্র নিজের বাড়িতে নিয়ে যান।প্রতিবেদনে বিষয়টি উল্লিখিত হয়েছে। মামলার কারণে কমিটির নিয়মিত কার্যক্রম না থাকায় মাদরাসার জরুরী সংস্কার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে ।

কর্মচারীর অনেকগুলো পদ শুন্য থাকায় প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হলেও কমিটির বিরুদ্ধে মামলা থাকায় নিয়োগ প্রদান সম্ভব হচ্ছে না। সাবেক অধ্যক্ষ মতিয়ার রহমান প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসলেও নিয়মিত প্রতিষ্ঠানটির মঞ্জুরি নবায়ন করেননি। প্রতিষ্ঠানের প্রতি চরম ঔদাসিন্য থেকেই প্রতিষ্ঠানটি এই অবস্থা। ১৯৭৭ ইং সালে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে প্রতিষ্ঠিত নিবন্ধিত এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং নামের প্রতিষ্ঠানটিও বন্ধ করে দেন সাবেক অধ্যক্ষ ।
পরবর্তীতে ৭ই মার্চ ২০১২ সালে নতুন নিয়োগ প্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল কাশেম মাদরাসাটির মঞ্জুরি নিয়মিত নবায়ন করেন।প্রতিষ্ঠানটি ফিরে পেতে থাকে প্রান চাঞ্চলতা।প্রান চাঞ্চল্যতা ফিরে পেতে থাকলে সাবেক অধ্যক্ষ ও তার শ্যালক মাওঃ মোহেব্বুল হাসান করিমীর অন্তরে হিংসার আগুন তুষের আগুনের মত জ্বলতে থাকে ।শুরু হয় প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের ষড়যন্ত্র।চলে মামলা মামলা খেলা।মিথ্যা মামলার জনক মাওঃ মুহেববুল হাসান করিমী।তার মেয়ে সাতদরগাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উপবৃত্তি প্রাপ্ত নিয়মিত শিক্ষার্থী।সাতদরগাহ নেছারিয়া কামিল মাদরাসায় কখনো তার মেয়ে পড়ালেখা করেনি।হঠাৎ করে ভূয়া অভিভাবক এর মিথ্যা তথ্য দিয়ে কমিটির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন।যার নং অন্য ৪৪/২০২০।অধ্যক্ষ আবুল কাশেম জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে ৬ শ শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত রয়েছে।এ ব্যাপারে সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা মতিউর রহমানের সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তিনি কোন কথা বলতে রাজি হননি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শাহ্ মোঃ তারিকুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি জানান,প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করেছি করোনা কালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম ছিলো।বর্তমানে আর তেমনটি নেই এখন উপস্থিতি ভালো।
নিউজবিজয়/এফএইচএন

newsbijoy.com

আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

সকল সংবাদ পেতে ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন…

নিউজবিজয় ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

© All rights reserved © 2015-2022 NEWSBIJOY24
Developed BY NewsBijoy24.Com
themesbanewsbijo41