ঢাকা ০২:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

Up to BDT 150 Cashback on New Connection

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার

হারাগাছে নিচু জায়গায় নির্মাণ করা মুজিব বর্ষের উপহারের ঘর পানিতে ভাসছে

newsbijoy.com

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ ক্যানেলটারী এলাকার সরকারের দেয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের উপকার ভোগিদের ঘর পানিতে ভাসছে। ফলে সেখানে থাকা ৭টি পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
জানা গেছে, বঙ্গবন্ধুর মানস কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুজিব বর্ষে সারাদেশে আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ভুমিহীনদের পুর্ণবাসনের পরিকল্পনা হাতে নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় হারাগাছ পৌর এলাকার মায়া বাজার ক্যানেলটারী এলাকায় ভুমিহীনদের পুর্ণবাসনের জন্য গত ১৫ ই ফেব্রুয়ারি মায়া গ্রুপের পরিচালনা পর্ষদ ৫৬ শতাংশ জমি আশ্রয়ন প্রকল্পের নামে সরকারকে দান করে। সেই জমিতে উপজেলা প্রশাসন ২২জন উপকারভোগী প্রত্যেককে দুই শতাংশ জমি ও পাকা ঘর নির্মাণ করে দেয়।
তবে মুজিববর্ষ উপলক্ষে উপহারের ঘরগুলো এমন নিচু জায়গায় করা নিয়ে স্থানীয় লোকজন শুরু থেকেই আপত্তি তুলেছিলেন। তাদের অভিযোগ ছিল, জায়গাটি উঁচু না করে ঘর তৈরি করা হয়েছে। এ কারণে সামন্য বৃষ্টির পানিতে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরগুলো পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। এজন্য তারা দায়ী করেন নির্মাণের দায়িত্বে থাকা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের।
বুধবার বিকালে হারাগাছ পৌর এলাকার ক্যানেলটারি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, আশ্রয়ন প্রকল্পের বেশ কিছু ঘরের ভেতর ও বাইরের তিন ফিট পানি উঠেছে। সেখানকার উপকারভোগীরা ঘর ছেড়ে তারা উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা আনিছুর রহমান বলেন, অল্প বৃষ্টিতে পানি ঘরে ঢুকে গেছে। রান্নাঘর, যাতায়াত রাস্তা, টিউবওয়েল, বাথরুম পানিতে ডুবে আছে। এই অবস্থা নিরসনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসকের সহযোগিতা চাই।
সাবানা নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, আমাদের ঘর-বাড়ি জমি জমা নেই। তাই মায়ার ছেলেরা সরকারকে জমি দান করেছে সেই জমিতে
প্রধানমন্ত্রী আমাদের ঘর দিছে। অল্প বৃষ্টিতে আমাদের ঘরে মধ্যে পানি ঢুকে গেছে। পানিবন্দি হয়ে প্রায় আছি। সাপ বা বিভিন্ন পোকামাকড় আক্রমণের শংকা রয়েছে।
পারভীন নামে আরও এক বাসিন্দা বলেন, গৃহহীনদের জন্য দুর্যোগ সহনীয় ঘরগুলো বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাবে। খুব নিচু জায়গায় ঘরগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। ঘর ছাড়ি অন্যের বাড়িতে সন্তানদের নিয়ে আশ্রয় নিয়েছে।
ক্যানেলটারী বাসিন্দা জামরুল বলেন, আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর গুলো নির্মাণে প্রশাসনের গাফলাতি রয়েছে। প্রশাসন জানে এই জায়গাটি নিচু। নিচু এলাকা উঁচু করে ঘরগুলো নির্মাণ করা দরকার ছিল। কিন্তু ঘর নির্মাণের পর ঘরের আশপাশ বালু দিয়ে উচুকরণ করা হয়।
হারাগাছ পৌরসভার কাউন্সিলর নুরফুল ইসলাম সরা বলেন, পানি নিষ্কাশনে নালাগুলোন অবৈধ ভাবে দখল হওয়ার কারণেই আশ্রয়ন প্রকল্পের উপকারভোগীরা সহ পুরো ক্যানেলটারী এলাকার মানুষকে জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ক্যানেলটারী এলাকায় আশ্রয়ন প্রকল্পের কিছু ঘর পানি বন্দি হওয়ার বিষয়ে কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা তারিন পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার না থাকার বিষয়কে দায়ী করলেন। তিনি বলেন, পৌর কর্তৃপক্ষকে বার বার বলার পরও মেয়র কোন ব্যবস্থা নেয়নি। এছাড়া রয়েছে সেগুলো হচ্ছে ময়লা আবর্জনায় ভর্তি। ফলে আসন প্রকল্পের ঘর এলাকা থেকে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না।নিউজবিজয়/এফএইচএন

সকল সংবাদ পেতে ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন…

নিউজবিজয় ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

NewsBijoy

নিউজবিজয়২৪.কম একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল। বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। উৎসর্গ করলাম আমার বাবার নামে, যাঁর স্নেহ-সান্নিধ্যের পরশ পরিবারের সুখ-দু:খ,হাসি-কান্না,ব্যথা-বেদনার মাঝেও আপার শান্তিতে পরিবার তথা সমাজে মাথা উচুঁ করে নিজের অস্তিত্বকে মেলে ধরতে পেরেছি।

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার

হারাগাছে নিচু জায়গায় নির্মাণ করা মুজিব বর্ষের উপহারের ঘর পানিতে ভাসছে

প্রকাশিত সময়: ০৬:১৬:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ অগাস্ট ২০২২

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ ক্যানেলটারী এলাকার সরকারের দেয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের উপকার ভোগিদের ঘর পানিতে ভাসছে। ফলে সেখানে থাকা ৭টি পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
জানা গেছে, বঙ্গবন্ধুর মানস কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুজিব বর্ষে সারাদেশে আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ভুমিহীনদের পুর্ণবাসনের পরিকল্পনা হাতে নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় হারাগাছ পৌর এলাকার মায়া বাজার ক্যানেলটারী এলাকায় ভুমিহীনদের পুর্ণবাসনের জন্য গত ১৫ ই ফেব্রুয়ারি মায়া গ্রুপের পরিচালনা পর্ষদ ৫৬ শতাংশ জমি আশ্রয়ন প্রকল্পের নামে সরকারকে দান করে। সেই জমিতে উপজেলা প্রশাসন ২২জন উপকারভোগী প্রত্যেককে দুই শতাংশ জমি ও পাকা ঘর নির্মাণ করে দেয়।
তবে মুজিববর্ষ উপলক্ষে উপহারের ঘরগুলো এমন নিচু জায়গায় করা নিয়ে স্থানীয় লোকজন শুরু থেকেই আপত্তি তুলেছিলেন। তাদের অভিযোগ ছিল, জায়গাটি উঁচু না করে ঘর তৈরি করা হয়েছে। এ কারণে সামন্য বৃষ্টির পানিতে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরগুলো পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। এজন্য তারা দায়ী করেন নির্মাণের দায়িত্বে থাকা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের।
বুধবার বিকালে হারাগাছ পৌর এলাকার ক্যানেলটারি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, আশ্রয়ন প্রকল্পের বেশ কিছু ঘরের ভেতর ও বাইরের তিন ফিট পানি উঠেছে। সেখানকার উপকারভোগীরা ঘর ছেড়ে তারা উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা আনিছুর রহমান বলেন, অল্প বৃষ্টিতে পানি ঘরে ঢুকে গেছে। রান্নাঘর, যাতায়াত রাস্তা, টিউবওয়েল, বাথরুম পানিতে ডুবে আছে। এই অবস্থা নিরসনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসকের সহযোগিতা চাই।
সাবানা নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, আমাদের ঘর-বাড়ি জমি জমা নেই। তাই মায়ার ছেলেরা সরকারকে জমি দান করেছে সেই জমিতে
প্রধানমন্ত্রী আমাদের ঘর দিছে। অল্প বৃষ্টিতে আমাদের ঘরে মধ্যে পানি ঢুকে গেছে। পানিবন্দি হয়ে প্রায় আছি। সাপ বা বিভিন্ন পোকামাকড় আক্রমণের শংকা রয়েছে।
পারভীন নামে আরও এক বাসিন্দা বলেন, গৃহহীনদের জন্য দুর্যোগ সহনীয় ঘরগুলো বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাবে। খুব নিচু জায়গায় ঘরগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। ঘর ছাড়ি অন্যের বাড়িতে সন্তানদের নিয়ে আশ্রয় নিয়েছে।
ক্যানেলটারী বাসিন্দা জামরুল বলেন, আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর গুলো নির্মাণে প্রশাসনের গাফলাতি রয়েছে। প্রশাসন জানে এই জায়গাটি নিচু। নিচু এলাকা উঁচু করে ঘরগুলো নির্মাণ করা দরকার ছিল। কিন্তু ঘর নির্মাণের পর ঘরের আশপাশ বালু দিয়ে উচুকরণ করা হয়।
হারাগাছ পৌরসভার কাউন্সিলর নুরফুল ইসলাম সরা বলেন, পানি নিষ্কাশনে নালাগুলোন অবৈধ ভাবে দখল হওয়ার কারণেই আশ্রয়ন প্রকল্পের উপকারভোগীরা সহ পুরো ক্যানেলটারী এলাকার মানুষকে জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ক্যানেলটারী এলাকায় আশ্রয়ন প্রকল্পের কিছু ঘর পানি বন্দি হওয়ার বিষয়ে কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা তারিন পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার না থাকার বিষয়কে দায়ী করলেন। তিনি বলেন, পৌর কর্তৃপক্ষকে বার বার বলার পরও মেয়র কোন ব্যবস্থা নেয়নি। এছাড়া রয়েছে সেগুলো হচ্ছে ময়লা আবর্জনায় ভর্তি। ফলে আসন প্রকল্পের ঘর এলাকা থেকে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না।নিউজবিজয়/এফএইচএন