ঢাকা ০৮:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ১১ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞপ্তি :-
NewsBijoy নিউজ বিজয়ের পক্ষ থেকে সবাইকে  অভিনন্দন NewsBijoy  দেশের জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল  " নিউজ বিজয় নতুন আঙ্গিকে যাত্রা শুরু করলো " NewsBijoy  এ জন্য  নিউজ বিজয়ের সাইডে আপডেটের কাজ চলছে। তাই এই পরিবর্তনের সময়ে পাঠকের সাময়িক সমস্যা হতে পারে। NewsBijoy

পদ্মা সেতু নির্মাণ

কয়েকদিন থেকে জেলার সব নদীর পানি হ্রাস-বৃদ্ধির মধ্যে রয়েছে

লালমনিরহাটে ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি

কয়েকদিন থেকে জেলার সব নদীর পানি হ্রাস-বৃদ্ধির মধ্যে রয়েছে

কয়েকদিন হতে টানা বর্ষন ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসায় পাহাড়ি ঢলের পানির ফলে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পায়। ফলে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের ৩ হাজার পরিবারসহ প্রায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
রান্না ও টয়লেটসহ স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে নদী পাড়ের হাজার হাজর মানুষ। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যার্তদের জন্য ১৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হলেও এখনও অধিকাংশ পানিবন্দি পরিবার ত্রাণ সহায়তা পায়নি বলে জানা গেছে।
newsbijoy
রবিবার (১৯ জুন) বিকাল ৪টায় তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার (৫৩ সেন্টিমিটার) মাত্র ৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয় (স্বাভাবিক ৫২.৬০ সেন্টিমামিটার)। এর আগে শনিবার রাতে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটারের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। গত কয়েকদিন থেকে জেলার সব নদীর পানি হ্রাস-বৃদ্ধির মধ্যে রয়েছে।
জানা যায়, ভারী বর্ষণ আর উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার মাত্র ৬ সেন্টিমিটারের উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে নদী তীরবর্তী জেলার পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালিগঞ্জ, আদিতমারী ও সদরের ১০ হাজারেরও বেশি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। হাটু থেকে কোমর পানিতে বন্দী এসব লোকজন রান্না ও টয়লেট করতে পারছেন না। রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় চলাচলসহ স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে না পারায় চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন এসব এলাকার মানুষ। স্কুল-কলেজ ডুবে যাওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে। শুকনো খাবার ও নিরাপদ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এ ছাড়াও পোষাপ্রাণী গরু, ছাগল, হাস মুরগী নিয়েও অসহায় অবস্থায় রয়েছেন তিস্তা পারের লোকজন।
জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বন্যার্তদের সাহায্যের জন্য ইতিমধ্যে সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শুকনো খাবারসহ নগদ অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। নদীভাঙ্গনে জিও ব্যাগ ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিস্তা ও ধরলার পানি বৃদ্ধি ও জেলার পাটগ্রামের দহগ্রাম, হাতীবান্ধার গড্ডিমারী, দোয়ানী, ছয়আনী, সানিয়াজান ইউনিয়নের নিজ শেখ সুন্দর, বাঘের চর, ফকিরপাড়া ইউপির রমনীগঞ্জ, সিঙ্গামারি ইউনিয়নের ধুবনী, সিন্দুর্না ইউপির পাটিকাপাড়া, হলদিবাড়ী, ডাউয়াবাড়ী, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, শৈইলমারী, নোহালী, চর বৈরাতি, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, পলাশী ও সদর উপজেলার ফলিমারীর চর খুনিয়াগাছ, রাজপুর, গোকুণ্ডা ইউনিয়নের তিস্তা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করায় প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারীর তালেব মোড় এলাকার শফিকুল ইসলাম বলেন, অত্র ইউনিয়নের ১,৩,৫,৬ আর ৯ এর অংশ পরিবার ৭ দিন যাবত পানি বন্দী হয়ে আছে। চারিদিকে পানির ফলে তারা ঘর থেকে বের হতে পারছেন। এই পরিবার গুলোর মধ্যে অধিকাংশ লোকই দিন মজুর ও জেলে হওয়ায় তারা খাদ্যাভাবে ভুগছে। দ্রুত তাদের জন্য সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা দরকার।
একই এলাকার চা দোকানদার বিপ্লব হোসেন বাবু (৩৮) বলেন, কয়েকদিন হতে আমরা পানিবন্দী হলেও এখন পর্যন্ত সরকারি সহায়তা বলতে কিছুই পাইনি।
৬ নং ওয়ার্ডের দিনমজুর বোরহান আলী বলেন, ৮-১০দিন হতে পানি বন্দী। গতকাল একটু পানি কমলেও আজকে আবারও বেড়ে গেছে।
হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আবু বকর সিদ্দিক শ্যামল বলেন, গত কয়েকদিনে প্রায় ৩ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পরেছে। এদের মধ্যে অধিকাংশ লোক দিনমজুর ও মৎস্যজীবী হওয়ায় অনেকেই খাদ্য সংকটে ভুগছে। এখন পর্যন্ত কোন ত্রান-সাহায্য পাওয়া যায়নি। ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু পরিবারকে সাহায্য সহযোগিতা করে যাচ্ছি।
হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাইদুল ইসলামে সাথে কথা বলার জন্য তার মুঠোফোনে কল দেয়া হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
আদিতমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মফিজুল ইসলাম বলেন, উপজেলার মহিষখোচা, দুর্গাপুর ইউনিয়নের পানিবন্দি লোকজনের তালিকা করে সাহায্য করা হচ্ছে। বন্যাদুর্গতদের সকল সহযোগিতা অব্যাহত আছে।
এ ব্যাপারে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোঃ আবু জাফর বলেন, বন্যাকবলিত জেলার পাঁচ উপজেলায় ১৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার তা বিতরণও শেষ হয়েছে। বন্যা কবলিত যেসব এলাকা আছে সেগুলোতে শুকনো খাবার বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
লালমনিরহাট জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, গতকালের চেয়ে আজ তিস্তা ও ধরলার পানি বেড়ে বিপৎসীমার লেবেলে উঠা-নামার মধ্যে রয়েছে। নদীভাঙ্গন রোধে বিভিন্ন যায়গায় জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। এ ছাড়াও জরুরি প্রয়োজনে যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সম্পর্কিত বিষয় :

পাঠকের মন্তব্য:

NewsBijoy

নিউজবিজয়২৪.কম একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল। বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। নিউজবিজয় এখন তিন ভাষায় পড়ুন – (NewsBijoy Now Read in Three Languages) 'মানবতার পক্ষে সবসময়'

পলাশবাড়ীতে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গুরুতর আহত,২ : গ্রেফতার -১

পদ্মা সেতু নির্মাণ

কয়েকদিন থেকে জেলার সব নদীর পানি হ্রাস-বৃদ্ধির মধ্যে রয়েছে

লালমনিরহাটে ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি

আপডেট সময় : ১২:৩৯:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুন ২০২২
কয়েকদিন হতে টানা বর্ষন ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসায় পাহাড়ি ঢলের পানির ফলে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পায়। ফলে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের ৩ হাজার পরিবারসহ প্রায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
রান্না ও টয়লেটসহ স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে নদী পাড়ের হাজার হাজর মানুষ। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যার্তদের জন্য ১৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হলেও এখনও অধিকাংশ পানিবন্দি পরিবার ত্রাণ সহায়তা পায়নি বলে জানা গেছে।
newsbijoy
রবিবার (১৯ জুন) বিকাল ৪টায় তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার (৫৩ সেন্টিমিটার) মাত্র ৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয় (স্বাভাবিক ৫২.৬০ সেন্টিমামিটার)। এর আগে শনিবার রাতে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটারের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। গত কয়েকদিন থেকে জেলার সব নদীর পানি হ্রাস-বৃদ্ধির মধ্যে রয়েছে।
জানা যায়, ভারী বর্ষণ আর উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার মাত্র ৬ সেন্টিমিটারের উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে নদী তীরবর্তী জেলার পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালিগঞ্জ, আদিতমারী ও সদরের ১০ হাজারেরও বেশি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। হাটু থেকে কোমর পানিতে বন্দী এসব লোকজন রান্না ও টয়লেট করতে পারছেন না। রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় চলাচলসহ স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে না পারায় চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন এসব এলাকার মানুষ। স্কুল-কলেজ ডুবে যাওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে। শুকনো খাবার ও নিরাপদ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এ ছাড়াও পোষাপ্রাণী গরু, ছাগল, হাস মুরগী নিয়েও অসহায় অবস্থায় রয়েছেন তিস্তা পারের লোকজন।
জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বন্যার্তদের সাহায্যের জন্য ইতিমধ্যে সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শুকনো খাবারসহ নগদ অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। নদীভাঙ্গনে জিও ব্যাগ ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিস্তা ও ধরলার পানি বৃদ্ধি ও জেলার পাটগ্রামের দহগ্রাম, হাতীবান্ধার গড্ডিমারী, দোয়ানী, ছয়আনী, সানিয়াজান ইউনিয়নের নিজ শেখ সুন্দর, বাঘের চর, ফকিরপাড়া ইউপির রমনীগঞ্জ, সিঙ্গামারি ইউনিয়নের ধুবনী, সিন্দুর্না ইউপির পাটিকাপাড়া, হলদিবাড়ী, ডাউয়াবাড়ী, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, শৈইলমারী, নোহালী, চর বৈরাতি, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, পলাশী ও সদর উপজেলার ফলিমারীর চর খুনিয়াগাছ, রাজপুর, গোকুণ্ডা ইউনিয়নের তিস্তা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করায় প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারীর তালেব মোড় এলাকার শফিকুল ইসলাম বলেন, অত্র ইউনিয়নের ১,৩,৫,৬ আর ৯ এর অংশ পরিবার ৭ দিন যাবত পানি বন্দী হয়ে আছে। চারিদিকে পানির ফলে তারা ঘর থেকে বের হতে পারছেন। এই পরিবার গুলোর মধ্যে অধিকাংশ লোকই দিন মজুর ও জেলে হওয়ায় তারা খাদ্যাভাবে ভুগছে। দ্রুত তাদের জন্য সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা দরকার।
একই এলাকার চা দোকানদার বিপ্লব হোসেন বাবু (৩৮) বলেন, কয়েকদিন হতে আমরা পানিবন্দী হলেও এখন পর্যন্ত সরকারি সহায়তা বলতে কিছুই পাইনি।
৬ নং ওয়ার্ডের দিনমজুর বোরহান আলী বলেন, ৮-১০দিন হতে পানি বন্দী। গতকাল একটু পানি কমলেও আজকে আবারও বেড়ে গেছে।
হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আবু বকর সিদ্দিক শ্যামল বলেন, গত কয়েকদিনে প্রায় ৩ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পরেছে। এদের মধ্যে অধিকাংশ লোক দিনমজুর ও মৎস্যজীবী হওয়ায় অনেকেই খাদ্য সংকটে ভুগছে। এখন পর্যন্ত কোন ত্রান-সাহায্য পাওয়া যায়নি। ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু পরিবারকে সাহায্য সহযোগিতা করে যাচ্ছি।
হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাইদুল ইসলামে সাথে কথা বলার জন্য তার মুঠোফোনে কল দেয়া হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
আদিতমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মফিজুল ইসলাম বলেন, উপজেলার মহিষখোচা, দুর্গাপুর ইউনিয়নের পানিবন্দি লোকজনের তালিকা করে সাহায্য করা হচ্ছে। বন্যাদুর্গতদের সকল সহযোগিতা অব্যাহত আছে।
এ ব্যাপারে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোঃ আবু জাফর বলেন, বন্যাকবলিত জেলার পাঁচ উপজেলায় ১৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার তা বিতরণও শেষ হয়েছে। বন্যা কবলিত যেসব এলাকা আছে সেগুলোতে শুকনো খাবার বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
লালমনিরহাট জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, গতকালের চেয়ে আজ তিস্তা ও ধরলার পানি বেড়ে বিপৎসীমার লেবেলে উঠা-নামার মধ্যে রয়েছে। নদীভাঙ্গন রোধে বিভিন্ন যায়গায় জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। এ ছাড়াও জরুরি প্রয়োজনে যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।