ঢাকা ০৫:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২২, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শুরু হলো শোকের মাস আগস্ট

লালমনিরহাটে বিপৎসীমা ছুঁয়েছে তিস্তার পানি

তিস্তা ব্যারাজ

ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) সকাল থেকে তিস্তার পানি লালমনিরহাটের ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে বিপৎসীমা ছুঁয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদী তীরবর্তী গ্রামগুলোর বাড়ি-ঘরে পানি ঢুকতে শুরু করেছে।
নীলফামারীর ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, বৃহস্পতিবার ভোর থেকে তিস্তার পানি বাড়তে থাকে। সকাল ৬টায় বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার (বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার) নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। এরপর পানি বেড়ে সকাল ৯টায় বিপৎসীমা বরাবর অর্থাৎ ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে, পানির গতি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় ৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাটের পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালিগঞ্জ, আদিতমারী, সদর, রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া, পীরগাছা, কুড়িগ্রামের রাজারহাট, উলিপুর, চিলমারী এবং গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের হরিপুরের ব্রহ্মপুত্র নদ পর্যন্ত অববাহিকার ৩৫২ কিলোমিটার এলাকার চরাঞ্চল এবং নিম্নাঞ্চলে পানি উঠেছে। কোথাও কোথাও কোনো কোনো বাড়িতে কোমর অবদি পানি ঢুকেছে। এসব এলাকার উঠতি বাদাম, আমনের চারা, পাট, সবজিসহ বিভিন্ন ফসল নিমজ্জিত হয়েছে। ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, টেপাখড়িবাড়ী, খগাখড়িবাড়ী, খালিশা চাপানি, ঝুনাগাছ চাপানি ও গয়াবাড়ী ইউনিয়নের প্রায় ১০টি চরের বসতবাড়িতে পানি উঠেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। খালিশা চাপানি ইউনিয়নের বেলাল হোসেন জানান, বুধবার থেকে এলাকায় পানি ঢুকতে শুরু করে। আজ সকাল ১০টার দিকে বাড়ির আঙিনায় পানি প্রবেশ করেছে। টেপাখড়িবাড়ী এলাকার মারুফ হোসেন জানান, তাদের এলাকার নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে। তবে বাসা-বাড়িতে এখনো পানি প্রবেশ করেনি। রাতে বৃষ্টিপাত হলে বাড়িতেও পানি প্রবেশ করতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। টেপাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান ময়নুল ইসলাম বলেন, গত কয়েকদিন থেকে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে তিস্তার পানি বাড়তে থাকে। পানি বাড়ায় নদীবেষ্টিত নিম্নাঞ্চলগুলোতে পানি প্রবেশ করে। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে এসব এলাকায় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড নীলফামারীর ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফা উদ দৌলা বলেন, উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তা ব্যারাজের সবকয়টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে। বৃষ্টিপাত না হলে দ্রুত পানি কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

নিউজ বিজয়/ মোঃ নজরুল ইসলাম

সম্পর্কিত বিষয় :

নিউজবিজয় ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

সকল সংবাদ পেতে ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন…

আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় সংবাদটি শেয়ার দিন।

NewsBijoy

নিউজবিজয়২৪.কম একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল। বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। নিউজবিজয় এখন তিন ভাষায় পড়ুন – (NewsBijoy Now Read in Three Languages) 'মানবতার পক্ষে সবসময়'

ইতিহাসের এই দিনে: রোববার,১৪ই আগস্ট-২০২২

লালমনিরহাটে বিপৎসীমা ছুঁয়েছে তিস্তার পানি

আপডেট সময় : ০৭:১১:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুন ২০২২

ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) সকাল থেকে তিস্তার পানি লালমনিরহাটের ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে বিপৎসীমা ছুঁয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদী তীরবর্তী গ্রামগুলোর বাড়ি-ঘরে পানি ঢুকতে শুরু করেছে।
নীলফামারীর ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, বৃহস্পতিবার ভোর থেকে তিস্তার পানি বাড়তে থাকে। সকাল ৬টায় বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার (বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার) নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। এরপর পানি বেড়ে সকাল ৯টায় বিপৎসীমা বরাবর অর্থাৎ ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে, পানির গতি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় ৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাটের পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালিগঞ্জ, আদিতমারী, সদর, রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া, পীরগাছা, কুড়িগ্রামের রাজারহাট, উলিপুর, চিলমারী এবং গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের হরিপুরের ব্রহ্মপুত্র নদ পর্যন্ত অববাহিকার ৩৫২ কিলোমিটার এলাকার চরাঞ্চল এবং নিম্নাঞ্চলে পানি উঠেছে। কোথাও কোথাও কোনো কোনো বাড়িতে কোমর অবদি পানি ঢুকেছে। এসব এলাকার উঠতি বাদাম, আমনের চারা, পাট, সবজিসহ বিভিন্ন ফসল নিমজ্জিত হয়েছে। ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, টেপাখড়িবাড়ী, খগাখড়িবাড়ী, খালিশা চাপানি, ঝুনাগাছ চাপানি ও গয়াবাড়ী ইউনিয়নের প্রায় ১০টি চরের বসতবাড়িতে পানি উঠেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। খালিশা চাপানি ইউনিয়নের বেলাল হোসেন জানান, বুধবার থেকে এলাকায় পানি ঢুকতে শুরু করে। আজ সকাল ১০টার দিকে বাড়ির আঙিনায় পানি প্রবেশ করেছে। টেপাখড়িবাড়ী এলাকার মারুফ হোসেন জানান, তাদের এলাকার নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে। তবে বাসা-বাড়িতে এখনো পানি প্রবেশ করেনি। রাতে বৃষ্টিপাত হলে বাড়িতেও পানি প্রবেশ করতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। টেপাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান ময়নুল ইসলাম বলেন, গত কয়েকদিন থেকে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে তিস্তার পানি বাড়তে থাকে। পানি বাড়ায় নদীবেষ্টিত নিম্নাঞ্চলগুলোতে পানি প্রবেশ করে। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে এসব এলাকায় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড নীলফামারীর ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফা উদ দৌলা বলেন, উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তা ব্যারাজের সবকয়টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে। বৃষ্টিপাত না হলে দ্রুত পানি কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

নিউজ বিজয়/ মোঃ নজরুল ইসলাম