ঢাকা ০৫:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ১১ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞপ্তি :-
NewsBijoy নিউজ বিজয়ের পক্ষ থেকে সবাইকে  অভিনন্দন NewsBijoy  দেশের জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল  " নিউজ বিজয় নতুন আঙ্গিকে যাত্রা শুরু করলো " NewsBijoy  এ জন্য  নিউজ বিজয়ের সাইডে আপডেটের কাজ চলছে। তাই এই পরিবর্তনের সময়ে পাঠকের সাময়িক সমস্যা হতে পারে। NewsBijoy

পদ্মা সেতু নির্মাণ

মেজর হওয়ার পথে কানিজের বাধা হতে পারেনি হুইলচেয়ার

  • অনলাইন ডেস্ক:-
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৭:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুন ২০২২
  • ১৮০ বার পড়া হয়েছে ।

মেজর কানিজ ফাতিমা।

কানিজ ফাতিমার কর্মস্থল সাভার ক্যান্টনমেন্টে। তাঁর কক্ষের বাইরে নতুন নামফলক বসেছে। নামের আগে যোগ হয়েছে নতুন পদবি—মেজর। মেজর কানিজ ফাতিমা। ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে ৪ জুন ক্যাপ্টেন কানিজ ফাতিমাকে এই মেজর র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। ৫ জুন সাভার ক্যান্টনমেন্টে গিয়েছিলাম তাঁর সঙ্গে দেখা করতে। হুইলচেয়ারে বসে কাজ করছিলেন তিনি। কুশল বিনিময়ের পর বললেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুরু থেকেই সহযোগিতা করছে বলেই আমি এ পর্যন্ত আসতে পেরেছি। প্রতিষ্ঠান আমাকে সাপোর্ট করেছে, প্রতিষ্ঠানের কাজে লাগতে পারি, সে জন্য নিজেও সংগ্রাম করেছি।’কানিজ বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের অধীনে ৩৩ এসটি ব্যাটালিয়নে কর্মরত। তাঁর কর্মজীবনের শুরুও এখানে। কানিজ ফাতিমা শোনালেন সেই গল্প। ২০১১ সাল। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন কানিজ। এরপর বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন তিনি। ২০১২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর প্রশিক্ষণের সময় এক দুর্ঘটনায় তাঁর মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে যায়। অসুস্থ কানিজকে চিকিৎসার জন্য আনা হলো ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে। চিকিৎসা চলে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে। এরপর থাকলেন সাভারের সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্য প্যারালাইজড বা সিআরপিতে। এভাবে চিকিৎসা নিতে হয় প্রায় এক বছর।২০১৩ সালে সেনাবাহিনী কানিজকে ৬৯ বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের সঙ্গে বিশেষ বিবেচনায় কমিশন প্রদান করে। কমিশনপ্রাপ্তির ২০ দিনের মাথায় বাবাকে হারান। পরিবারে দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় তিনি। বড় মেয়ে হিসেবে পরিবারের দায়িত্বও তুলে নেন কাঁধে। কানিজ বলছিলেন, ‘পরিবার ও পেশা—দুটিই আমাকে শক্ত হতে সাহায্য করেছে। দুর্বল বা পিছিয়ে থাকার কোনো উপায় ছিল না। আমার পেশাটি চ্যালেঞ্জিং, এখানে সফল হতে হলে মানসিকভাবে শক্ত হতেই হবে।’
কর্মক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে কানিজ বললেন, অন্য দশজনের চেয়ে কাজের ক্ষেত্রে তাঁর পার্থক্য হলো—অন্যরা শারীরিক কসরত, খেলাধুলা করছেন। তিনি এ কাজগুলো করতে পারছেন না। তবে অফিসের ডেস্কে বসে নির্দেশনা দেওয়া, নেতৃত্ব দেওয়া, অফিশিয়াল নথিপত্রের কাজগুলো করছেন তিনি। এর মাধ্যমেই তিনি তাঁর মেধাকে সর্বোচ্চ কাজে লাগানোর চেষ্টা করেন। পেশাসংক্রান্ত বই পর্যালোচনার যে প্রতিযোগিতা, তাতে এ পর্যন্ত দুবার পুরস্কার পেয়েছেন কানিজ।
নিউজ বিজয়/নজরুল

সম্পর্কিত বিষয় :

পাঠকের মন্তব্য:

NewsBijoy

নিউজবিজয়২৪.কম একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল। বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। নিউজবিজয় এখন তিন ভাষায় পড়ুন – (NewsBijoy Now Read in Three Languages) 'মানবতার পক্ষে সবসময়'

মাকে নিয়ে সেলফি তুললেন প্রধানমন্ত্রীকন্যা পুতুল

পদ্মা সেতু নির্মাণ

মেজর হওয়ার পথে কানিজের বাধা হতে পারেনি হুইলচেয়ার

আপডেট সময় : ০৪:৫৭:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুন ২০২২

কানিজ ফাতিমার কর্মস্থল সাভার ক্যান্টনমেন্টে। তাঁর কক্ষের বাইরে নতুন নামফলক বসেছে। নামের আগে যোগ হয়েছে নতুন পদবি—মেজর। মেজর কানিজ ফাতিমা। ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে ৪ জুন ক্যাপ্টেন কানিজ ফাতিমাকে এই মেজর র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। ৫ জুন সাভার ক্যান্টনমেন্টে গিয়েছিলাম তাঁর সঙ্গে দেখা করতে। হুইলচেয়ারে বসে কাজ করছিলেন তিনি। কুশল বিনিময়ের পর বললেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুরু থেকেই সহযোগিতা করছে বলেই আমি এ পর্যন্ত আসতে পেরেছি। প্রতিষ্ঠান আমাকে সাপোর্ট করেছে, প্রতিষ্ঠানের কাজে লাগতে পারি, সে জন্য নিজেও সংগ্রাম করেছি।’কানিজ বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের অধীনে ৩৩ এসটি ব্যাটালিয়নে কর্মরত। তাঁর কর্মজীবনের শুরুও এখানে। কানিজ ফাতিমা শোনালেন সেই গল্প। ২০১১ সাল। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন কানিজ। এরপর বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন তিনি। ২০১২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর প্রশিক্ষণের সময় এক দুর্ঘটনায় তাঁর মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে যায়। অসুস্থ কানিজকে চিকিৎসার জন্য আনা হলো ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে। চিকিৎসা চলে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে। এরপর থাকলেন সাভারের সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্য প্যারালাইজড বা সিআরপিতে। এভাবে চিকিৎসা নিতে হয় প্রায় এক বছর।২০১৩ সালে সেনাবাহিনী কানিজকে ৬৯ বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের সঙ্গে বিশেষ বিবেচনায় কমিশন প্রদান করে। কমিশনপ্রাপ্তির ২০ দিনের মাথায় বাবাকে হারান। পরিবারে দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় তিনি। বড় মেয়ে হিসেবে পরিবারের দায়িত্বও তুলে নেন কাঁধে। কানিজ বলছিলেন, ‘পরিবার ও পেশা—দুটিই আমাকে শক্ত হতে সাহায্য করেছে। দুর্বল বা পিছিয়ে থাকার কোনো উপায় ছিল না। আমার পেশাটি চ্যালেঞ্জিং, এখানে সফল হতে হলে মানসিকভাবে শক্ত হতেই হবে।’
কর্মক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে কানিজ বললেন, অন্য দশজনের চেয়ে কাজের ক্ষেত্রে তাঁর পার্থক্য হলো—অন্যরা শারীরিক কসরত, খেলাধুলা করছেন। তিনি এ কাজগুলো করতে পারছেন না। তবে অফিসের ডেস্কে বসে নির্দেশনা দেওয়া, নেতৃত্ব দেওয়া, অফিশিয়াল নথিপত্রের কাজগুলো করছেন তিনি। এর মাধ্যমেই তিনি তাঁর মেধাকে সর্বোচ্চ কাজে লাগানোর চেষ্টা করেন। পেশাসংক্রান্ত বই পর্যালোচনার যে প্রতিযোগিতা, তাতে এ পর্যন্ত দুবার পুরস্কার পেয়েছেন কানিজ।
নিউজ বিজয়/নজরুল