ঢাকা ০৮:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

Up to BDT 150 Cashback on New Connection

বিশ্বের সেরা বিশ্বয়কর চরিত্র হচ্ছে শিশু চরিত্র

“মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষায় বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ/সমস্যা ও সম্ভাবনা”

newsbijoy.com

বিশ্বের সেরা বিশ্বয়কর চরিত্র হচ্ছে শিশু চরিত্র। শিশু মনের গভীরে সৃষ্ট আলোড়ন আর নিউরনে অনুরনন বুঝা বড় দায়। একই ঘটনা প্রত্যক্ষ করে ভিন্ন ভিন্ন শিশু ভিন্ন অভিজ্ঞতা/জ্ঞান অর্জন করে। তাই তো মনোবিজ্ঞানী, দার্শনিক কিংবা শিক্ষাবিদগণ শিশু মন নিয়ে সর্বদাই ভাবনার মধ্যেই থাকেন। শিশুকে শিক্ষিত করে তুলতে তারা নানা গবেষণার মাধ্যমে প্রণয়ন করেন শিক্ষাক্রম। শিক্ষাক্রম এমন একটি লিখিত পরিকল্পনা যা দেশ ও জাতীর কল্যানে একটি বিজ্ঞানসম্মত , দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ আদর্শ নাগরিক তৈরির রোডম্যাপ হিসেবে কাজ করে। এই রোডম্যাপ বাস্তবায়নে বা শিক্ষাক্রম বিস্তরণের মূল কাজটি হয়ে থাকে শ্রেণিকক্ষে। শ্রেণিকক্ষকে বিবেচনায় এনে আমরা সেখানে তিনটি ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে পারি। এই ক্ষেত্র তিনটি যত smooth হবে curriculum dissemination কাজটিও তত smooth হবে। ক্ষেত্র তিনটি হচ্ছে ১। শিক্ষক ২। শিক্ষার্থী ৩। শ্রেণীকক্ষ ।
১৯৭৩ সালে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষাকে জাতীয়করণের মাধ্যমে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষার ভিত রচনা করেন। তারই ধারাবাহিকতায় প্রাথমিক শিক্ষায় আরো গতি আনার জন্য বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালে প্রায় ২৩হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করে আরও অবারিত করে দেন প্রাথমিক শিক্ষার দ্বারকে। বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষাকে নিয়ে যান এক অনন্য উচ্চতায়। তার এ অর্জনকে ধরে রাখতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সকল স্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতা হবে। মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশিতকরণের এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে কিছু চ্যালেঞ্জ/ সমস্যা ও সম্ভাবনা আমার গোচরিভূত হয়। চিহ্নিত সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগিয়ে সমস্যাওগুলোর সমাধান করতে পারলে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার গতি আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করি।
মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণের চ্যালেঞ্জ/ সমস্যাসমূহ নিম্নরূপঃ

শিক্ষকঃ
১। মেধাবী ও কর্তব্যপরায়ণ শিক্ষকের অভাবঃ মেধাবী ও কর্তব্যপরায়ণ শিখক ছাড়া মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করতে না পাড়লে বুদ্ধিবৃত্তিক জাতি গঠন করা সম্ভব না। তাই সর্বাগ্রে নজর দিতে হবে শিক্ষক বাছাইয়ের দিকে। বর্তমান নিয়োগ প্রকৃয়াকে সামান্য পরিবর্তন করে ২০০ বা তদুর্ধ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা প্রবর্তন করা যেতে পারে।
২। একই বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত থাকাঃ অন্যান্য পেশায় ৩ বছর অন্তর অন্তর বদলির নিয়োম থাকলেও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এধরণের নিয়োম নাই। ফলে শিক্ষকদের মধ্যে একগুয়েমিতা পরিলক্কিত হয়। তাই অন্তত ৫/৬ বছর অন্তর অন্তর বদলির ব্যবস্থা থাকা বাঞ্চণীয়।
৩। পাঠদানবহির্ভূত কাজে শিক্ষকদের সম্পৃক্ত করাঃ শিক্ষকতা একটি পেশা। এটা একটি শিল্প। শিল্পীদের যখন অন্য কাজে নিয়োজিত করা হয় তখন তার মূল পেশার চর্চা না থাকায় সেটির ছন্দ পতন হয়। আর শিল্পীর যখন ছন্দপতন ঘটে তখন তার থেকে কাঙ্খিত সেবা পেতে ব্যর্থ হবে দেশ। তাই পাঠদানের বাহিরে শিক্ষকদের কোন কাজে সম্পৃক্ত না করাই শ্রেয়।
৪। চাহিদাভিত্তিক সাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণ বন্ধ থাকাঃ সাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণ হচ্ছে একধরণের সঞ্জীবনী প্রশিক্ষণ। এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকদের একগুঁইয়েমিতা দূর হয়, বিগত দিনের ত্রুটি-বিচ্যুতি সংশোধনের সুযোগ পায়।
৫। প্রধান শিক্ষক- সহকারী শিক্ষকের মধ্যে চেইন অব কমান্ড নিশ্চিত করতে না পারাঃ কিছু কিছু বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক- সহকারী শিক্ষকের মধ্যে অন্তর্দ্ধন্দ্ব মানসম্মত শিক্ষার অন্তরায়।
৬। দুই শিফট বিদ্যালয়ের স্বল্প দৈর্ঘ্য সময়ে ( ৩০/৩৫ মিনিট) পাঠদান পরিচালনা করাঃ লক্ষণীয় বিষয় যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অধিকাংশই সমাজের সুবিধা বঞ্চিত , অনগ্রসর কিংবা দরিদ্র পরিবার থেকে এসেছে। বাড়িতে তাদের না আছে নিজে পড়ার সামর্থ্য না আছে সহায়তা নেওয়ার উপায়। এমতাবস্থায় শ্রেণিকক্ষের সময়টিই তাদের পাঠ গ্রহনের একমাত্র সময়। কিন্তু দুই শিফটের বিদ্যালয়গুলো মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করণে এক শিফটে পরিচালিত বিদ্যালয়গুলো থেকে অনেক পিছিয়ে।
৭। কারিকুলাম সম্পর্কে শিক্ষকের জ্ঞানের অপ্রতুলতাঃ কারিকুলাম সম্পর্কে অস্পষ্টতা থাকলে কারিকুলাম ডেসিমিনেশন সম্ভব হবে না। এজন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণে কারিকুলামের ধারণা স্পষ্টিকরণের পাশাপাশি শিক্ষকদের কর্তব্যপরায়ন হতে মটিভেট করতে হবে।
৮। শিক্ষকদের প্রশ্নপত্র প্রণয়নে অদক্ষতাঃ শিক্ষকগণ পাঠদান করেন ঠিকই কিন্তু প্রশ্নপত্র প্রণয়নে সরাসরি জড়িত না থাকায় প্রশ্নপত্রের কাঠামো সম্পর্কে অনেকেরই ধারণা থাকেনা। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন একদিকে যেমন শিক্ষকের প্রশ্নের কাঠামো জানতে সাহায্য করে অপরদিকে তেমনি তারা বিষয় জ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়।
৯। শিক্ষকদের পাঠ্যাভ্যাসে অনীহাঃ পাঠদান বহির্ভূত কাজে শিক্ষকদের সম্পৃক্ত করায় শিক্ষকদের পাঠ্যাভ্যাসের প্রতি আগ্রহ হারায়।।
১০। আইসিটিতে দক্ষ শিক্ষকের অপ্রতুলতাঃ সরকারের গৃহীত ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের অংশ হিসেবে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনার জন্য দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ, মাল্টিমিডিয়াসহ প্রয়োজনীয় আইসিটি পণ্য সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু আইসিটিতে দক্ষ শিক্ষকের অপ্রতুলতায় পণ্যগুলো যথাযথ ব্যবহার করা হচ্ছে না।
১১। শিক্ষকস্বল্পতাঃ বিদ্যালয়গুলোতে ১ম থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিদিন ২৪টি বিষয়সহ সংগীত, চারুকারু, শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে পাঠদান করা হয়। অপরদিকে সকাল ৯.০০/৯.৩০ টা হতে ১১.৩০ পর্যন্ত প্রাক-প্রাথমিকের পাঠ পরিচালনা করতে হয়। সকাল ৯.০০টা হতে ৩.৩০/৪.১৫ টা পর্যন্ত একজন শিক্ষককে গড়ে ৬ থেকে ৭ টি বিষয়ে পাঠদান করতে হয়। এই দীর্ঘ সময়ে একজন শিক্ষকের পক্ষে সকল বিষয়ে মানসম্মত পাঠদান করা দুরুহ বলে মনে করি। এমতাবস্থায় প্রতিটি বিদ্যালয়ে কমপক্ষে ৭ জন শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করে বিদ্যালয়গুলোকে এক শিফটে পরিনত করলে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত হবে এতে কোন সন্দেহ নাই।
১২। পাঠ পরিকল্পনাভিত্তিক পাঠদান পরিচালনা না করাঃ শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য পরিকল্পিত পাঠদানের বিকল্প নাই। কিন্তু বিদ্যালয়গুলোতে পাঠ পরিকল্পনা মোতাবেক পাঠদানের হার খুবই কম।
১৩। কোভিড-১৯ কালীন শিক্ষার্থীদের যথাযথ মনিটরিং-এর ব্যবস্থা না থাকাঃ কোভিড কালীন রেডি, টিভি ও অনলাইনভিত্তিক পাঠদানে সুনির্দিষ্ট মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি প্রকট আকার ধারণ করে।
১৪। শিক্ষকদের বেতন তুলনা মূলক কম থাকায় শিক্ষাদানের তুলনায় অন্যান্য কাজে সম্পৃক্ত থাকা। ফলে মানসম্মত শিক্ষাদান সম্ভব হচ্ছে না।

শিক্ষার্থীঃ
১। অনিয়মিত উপস্থিতিঃ শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার প্রধান অন্তরায়। বিশেষ করে কোভিড-১৯ পরবর্তী আনুষ্ঠানিক পাঠদান শুরু হলেও শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি শিখনঘাটতি পূরণে শিক্ষকদের যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে। এমতাবস্থায় শিক্ষকদের নিয়মিত হোমভিজিটের উপর জোর দেওয়া একান্ত জরুরি।
২। অভিভাবকদের অসচেতনতাঃ তৃণমূল পর্যায়ে অভিভাবকদের অসচেতনতা মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা অন্যতম বাধা। অভিভাবকগণ শিক্ষার গুরুত্ব না বুঝলেও দারিদ্রতার কারণে আর্থিক গুরুত্বটা বেশ ভালো বুঝেন। তাই তারা তাদের সন্তানদের বিভিন্ন কায়িক শ্রমে নিয়োজিত করেন।
৩। অভিভাবকদের কেজি স্কুল প্রীতিঃ প্রাথমিক শিক্ষার শিক্ষক্রম অনেক গবেষণার ফল। যে বয়সে যতটুকু শিক্ষার প্রয়োজন সে বয়সে ততটুকু শিক্ষা নিশ্চিত করা বাঞ্চণীয়। কিন্তু তথা কথিত সচেতন কিংবা বিত্তবান অভিভাবকরা কেজি স্কুলের মাধ্যমে সন্তানদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে বইয়ের পাহাড়। ফলে শিক্ষার্থীরা সৃজণশীল চিন্তার চেয়ে মুখস্থ নির্ভর হয়ে পড়ছে।
৪। কোভিড-১৯ কালীন অনুষ্ঠানিক মূল্যায়নঃ কোভিড কালীন আনুষ্ঠানিক মুল্যায়ন নাথাকায় শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি যাচাই বা শিখন অগ্রগতি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে অজানাই থেকে যায় শিক্ষার্থীর কৃতিত্ব। যা মানসম্মত শিক্ষার অন্যতম অন্তরায়।
৫। কোভিড-১৯ কালীন পরিচালিত অনলাইনভিত্তিক/ রেডিও/ টিভিতে সম্প্রচারিত ক্লাসে অংশগ্রহন না করাঃ
কোভিড কালীন আনুষ্ঠানিক পাঠদান বন্ধ থাকায় সরকারি সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে শুরু হয় রেডি, টিভি ও অনলাইনভিত্তিক পাঠদান। কিন্তু তৃণমূল পর্যায়ে কাঙ্খিত মানের সুযোগ-সুবিধা না থাকায় শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ পাঠদানের বাহিরেই থেকে যায়।
৬। কোভিড-১৯ কালীন ওয়ার্কসিটভিত্তিক কাজঃ কোভিড-১৯ এর সংক্রমন কালে শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি হ্রাস করার জন্য শিক্ষার্থীদের ওয়ার্কসিটভিত্তিক কাজ প্রদান করা হয়। কিন্তু অভিভাবকদের অসচেতনতা, শিক্ষকের মনিটরিং-এর অভাব এবং শিক্ষার্থীদের স্বভাবসুলভ অবহেলা প্রদর্শণ শিখন ঘাটতি হ্রাসকরণে ব্যর্থ হয়।
০৭। অভিভাবকদের প্রাইভেট, হোম টিউটর প্রতি আগ্রহ থাকা: বিদ্যালয়ে পাঠদান হয় না। অভিভাবকদের এই ধারণার কারনে প্রাইভেট, হোম টিউটর এ প্রতি প্রবল আগ্রহ থাকা।

শ্রেণিকক্ষ/ অবকাঠামোগতঃ
১। শ্রেণিকক্ষের অপ্রতুলতাঃ পাঠদান আর শ্রেণিকক্ষ একে অপরের উপর নির্ভরশীল । পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ ও সুসজ্জিত শ্রেণিকক্ষের অভাবে নিরানন্দ পরিবেশে অধিকাংশ বিদ্যালয়ে পাঠদান পরিচালনা করা হয়। ফলে শিক্ষার্থীদের
২। নিরানন্দ পরিবেশ। পাঠদান একটি বিমূর্ত ধারণা। মূর্ত ধারণার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিমূর্ত ধারণায় নিয়ে যাওয়ার জন্য শিখন পরিবেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। শিখন পরিবেশ হবে ভীতিহীন আর আনন্দমূখর। কিন্তু অধিকাংশ স্কুলে এধরণের পরিবেশ না থাকায় শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি কিংবা ঝরে পড়ার হার বৃদ্ধি পায়। এমতাবস্থায় বিদ্যালয়গুলোর পরিবেশকে আনন্দমূখর করার জন্য বস্তুনিষ্ঠ পরিকল্পনা গ্রহন করতে হবে।
৩। অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মাণঃ অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় ভবনগুলো অপরিকল্পিত ভাবে নির্মান করা হচ্ছে। সীমানা চিহ্নিতকরণ ছাড়াই তারাহুড়ো করে যেখানে সেখানে ভবন নির্মান করা হয়। এতে সঙ্কুচিত হচ্ছে শিশুদের খেলার মাঠ।
৪। শ্রেণিকক্ষে আসবাবপত্রের অপ্রতুলতাঃ শ্রেণিকক্ষের আসবাব পত্রের যথেষ্ট ঘাটতি আছে। এছাড়াও বিদ্যমান আসবাবপত্রগুলো শিশুবান্ধব নয়। ফলে শিক্ষার্থীরা বসতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেনা ।
৫। স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগারের অপ্রতুলতাঃ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগারের যথেষ্ট অভাব। কিছুকিছু বিদ্যালয়ে আধুনিক সুবিধাসম্বলিত শৌচাগার নির্মিত হলেও অধিকাংশ বিদ্যালয়েই ছাত্র/ছাত্রী বা শিক্ষক/ শিক্ষকার জন্য নাই কোন আলাদা শৌচাগার।
৬। ভবন/ বিদ্যালয়ের সম্পদ রক্ষায় স্থানীয়দের উদাসীনতাঃ স্থানীয় গণ্যমান্য এবং দাতাদের সহায়তায় প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো প্রতিষ্ঠিত হলেও জাতীয়করণের পর তারা বিদ্যালয়গুলোর রক্ষণাবেক্ষণে উদাসীন হয়ে পড়েন। তারা মনে করেন প্রতষ্ঠান যেহেতু সরকারের দেখাশোনার দায়িত্বও তাই সরকারের। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে শিক্ষকদের উদাসীনতার করণেও স্থানীয় জনগণ বিদ্যালয়মূখি হননা।
০৭। শিক্ষা সামগ্রী বিজ্ঞানভিত্তিক সামগ্রীর অভাব।

সম্ভাবনাঃ
১। প্রায় ১০০ভাগ প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণের আওতায় আনা হয়েছে।
২। বিদ্যালয়বিহীন গ্রামের সংখ্যা প্রায় নাই বললেই চলে।
৩। সি-ইন-এড প্রশিক্ষণকে ডিপিএড-এ উন্নিত করা
৪। একাডেমিক ও প্রশাসনিক মনিটরিং-এর জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক কর্তৃপক্ষ বিদ্যমান।
৫। প্রধান শিক্ষকের গ্রেড উন্নয়ন।
৬। বিদ্যালয়ের শিখন-শেখানো কার্যাবলি পরিচালনায় স্লিপ গ্রান্ড প্রদান।
৭। প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের আনন্দের সাথে পাঠগ্রহনের নিমিত্তে প্রাক-প্রাথমিকের জন্য প্রতি বছর আলাদা বরাদ্দ প্রদান।
৮। বিদ্যালয়গুলোতে দপ্তরি-কাম-প্রহরী নিয়োগ চলমান।
৯। প্রতিটি বিদ্যালয়ে আইসিটি সামগ্রী নিশ্চিত করা হয়েছে।
১০। প্রতিটি বিদ্যালয়ে অন্তত পক্ষে একজন করে আইসিটিতে দক্ষ শিক্ষক নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
১১। অধিকাংশ বিদ্যালয়ে ইন্টারনেট/ ওয়াইফাই সংযোগ প্রদান করা হয়েছে।
১২। স্ব-স্ব বিদ্যালয়ে প্রশ্নপত্র প্রণয়নে পরিপত্র বাস্তবায়ন হচ্ছে।
১৩। ১০০% শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি, কিট এলাউন্স প্রদান করা হচ্ছে।
১৪। বহুতল ভবন ও আধুনিক ওয়াশব্লকের কাজ চলমান।
১৫। শিশুদের নিরাপত্তায় সীমানা প্রাচীর ও দৃষ্টিনন্দন তোরণ নির্মাণের কাজ চলমান।
১৬। শিক্ষক- শিক্ষার্থীসহ সকল জনগোষ্ঠিকে কোভিড-১৯ ভেক্সিনের আওতায় আনয়ন।
১৭। প্রাক-প্রাথমিকের জন্য পৃথক শিক্ষক নিয়োগ।
১৮। শিক্ষা অফিসের পাশাপাশি উপজেলা রিসোর্স সেন্টার স্থাপন।
১৯। প্রায় ১০০ভাগ প্রাথমিক বিদ্যালয়কে বিদ্যুতের আওতায় আনয়ন।
২০। দুই বছর মেয়াদী প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালুকরণ (২০২৩ সাল হতে চালু হওয়ার সম্ভাবনা আছে)
২১। প্রতিটি বিদ্যালয়ে দৃষ্টিনন্দন পতাকাবেদী ও শহিদ মিনার নির্মাণের কাজ চলমান।
২২। বছরের শুরুতে ( ১ জানুয়ারি) শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই প্রদানের মাধ্যমে বই উৎসব পালন।
২৩। আন্তঃ প্রাথমিক বিদ্যালয় ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন।
২৪। একীভূত শিক্ষা প্রবর্তন।
২৬। কাবিং কার্যক্রম।
২৭। অভ্যন্তরীন প্রশিক্ষণের পাশাপাশি শিক্ষক ও কর্মকর্তাগণের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ প্রদান।
২৮। সার্বজনীন, বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন।
২৯। প্রাথমিক শিক্ষার জন্য স্বতন্ত্র শিক্ষাবোর্ড ( নেপ) স্থাপন।
উল্লেখিত সমস্যাগুলো সমাধানের উদ্যোগ গ্রহন এবং সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগালে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে খুব একটা বেগ পেতে হবে না।

(মো: মাহবুব হাসান)
উপজেলা নির্বাহী অফিসার
জলঢাকা, নীলফামারী।

নিউজবিজয়/এফএইচএন

সকল সংবাদ পেতে ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন…

নিউজবিজয় ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

NewsBijoy

নিউজবিজয়২৪.কম একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল। বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। উৎসর্গ করলাম আমার বাবার নামে, যাঁর স্নেহ-সান্নিধ্যের পরশ পরিবারের সুখ-দু:খ,হাসি-কান্না,ব্যথা-বেদনার মাঝেও আপার শান্তিতে পরিবার তথা সমাজে মাথা উচুঁ করে নিজের অস্তিত্বকে মেলে ধরতে পেরেছি।

জলঢাকায় রোড শো উদ্বোধন

বিশ্বের সেরা বিশ্বয়কর চরিত্র হচ্ছে শিশু চরিত্র

“মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষায় বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ/সমস্যা ও সম্ভাবনা”

প্রকাশিত সময়: ০৯:১২:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২

বিশ্বের সেরা বিশ্বয়কর চরিত্র হচ্ছে শিশু চরিত্র। শিশু মনের গভীরে সৃষ্ট আলোড়ন আর নিউরনে অনুরনন বুঝা বড় দায়। একই ঘটনা প্রত্যক্ষ করে ভিন্ন ভিন্ন শিশু ভিন্ন অভিজ্ঞতা/জ্ঞান অর্জন করে। তাই তো মনোবিজ্ঞানী, দার্শনিক কিংবা শিক্ষাবিদগণ শিশু মন নিয়ে সর্বদাই ভাবনার মধ্যেই থাকেন। শিশুকে শিক্ষিত করে তুলতে তারা নানা গবেষণার মাধ্যমে প্রণয়ন করেন শিক্ষাক্রম। শিক্ষাক্রম এমন একটি লিখিত পরিকল্পনা যা দেশ ও জাতীর কল্যানে একটি বিজ্ঞানসম্মত , দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ আদর্শ নাগরিক তৈরির রোডম্যাপ হিসেবে কাজ করে। এই রোডম্যাপ বাস্তবায়নে বা শিক্ষাক্রম বিস্তরণের মূল কাজটি হয়ে থাকে শ্রেণিকক্ষে। শ্রেণিকক্ষকে বিবেচনায় এনে আমরা সেখানে তিনটি ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে পারি। এই ক্ষেত্র তিনটি যত smooth হবে curriculum dissemination কাজটিও তত smooth হবে। ক্ষেত্র তিনটি হচ্ছে ১। শিক্ষক ২। শিক্ষার্থী ৩। শ্রেণীকক্ষ ।
১৯৭৩ সালে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষাকে জাতীয়করণের মাধ্যমে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষার ভিত রচনা করেন। তারই ধারাবাহিকতায় প্রাথমিক শিক্ষায় আরো গতি আনার জন্য বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালে প্রায় ২৩হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করে আরও অবারিত করে দেন প্রাথমিক শিক্ষার দ্বারকে। বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষাকে নিয়ে যান এক অনন্য উচ্চতায়। তার এ অর্জনকে ধরে রাখতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সকল স্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতা হবে। মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশিতকরণের এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে কিছু চ্যালেঞ্জ/ সমস্যা ও সম্ভাবনা আমার গোচরিভূত হয়। চিহ্নিত সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগিয়ে সমস্যাওগুলোর সমাধান করতে পারলে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার গতি আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করি।
মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণের চ্যালেঞ্জ/ সমস্যাসমূহ নিম্নরূপঃ

শিক্ষকঃ
১। মেধাবী ও কর্তব্যপরায়ণ শিক্ষকের অভাবঃ মেধাবী ও কর্তব্যপরায়ণ শিখক ছাড়া মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করতে না পাড়লে বুদ্ধিবৃত্তিক জাতি গঠন করা সম্ভব না। তাই সর্বাগ্রে নজর দিতে হবে শিক্ষক বাছাইয়ের দিকে। বর্তমান নিয়োগ প্রকৃয়াকে সামান্য পরিবর্তন করে ২০০ বা তদুর্ধ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা প্রবর্তন করা যেতে পারে।
২। একই বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত থাকাঃ অন্যান্য পেশায় ৩ বছর অন্তর অন্তর বদলির নিয়োম থাকলেও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এধরণের নিয়োম নাই। ফলে শিক্ষকদের মধ্যে একগুয়েমিতা পরিলক্কিত হয়। তাই অন্তত ৫/৬ বছর অন্তর অন্তর বদলির ব্যবস্থা থাকা বাঞ্চণীয়।
৩। পাঠদানবহির্ভূত কাজে শিক্ষকদের সম্পৃক্ত করাঃ শিক্ষকতা একটি পেশা। এটা একটি শিল্প। শিল্পীদের যখন অন্য কাজে নিয়োজিত করা হয় তখন তার মূল পেশার চর্চা না থাকায় সেটির ছন্দ পতন হয়। আর শিল্পীর যখন ছন্দপতন ঘটে তখন তার থেকে কাঙ্খিত সেবা পেতে ব্যর্থ হবে দেশ। তাই পাঠদানের বাহিরে শিক্ষকদের কোন কাজে সম্পৃক্ত না করাই শ্রেয়।
৪। চাহিদাভিত্তিক সাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণ বন্ধ থাকাঃ সাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণ হচ্ছে একধরণের সঞ্জীবনী প্রশিক্ষণ। এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকদের একগুঁইয়েমিতা দূর হয়, বিগত দিনের ত্রুটি-বিচ্যুতি সংশোধনের সুযোগ পায়।
৫। প্রধান শিক্ষক- সহকারী শিক্ষকের মধ্যে চেইন অব কমান্ড নিশ্চিত করতে না পারাঃ কিছু কিছু বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক- সহকারী শিক্ষকের মধ্যে অন্তর্দ্ধন্দ্ব মানসম্মত শিক্ষার অন্তরায়।
৬। দুই শিফট বিদ্যালয়ের স্বল্প দৈর্ঘ্য সময়ে ( ৩০/৩৫ মিনিট) পাঠদান পরিচালনা করাঃ লক্ষণীয় বিষয় যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অধিকাংশই সমাজের সুবিধা বঞ্চিত , অনগ্রসর কিংবা দরিদ্র পরিবার থেকে এসেছে। বাড়িতে তাদের না আছে নিজে পড়ার সামর্থ্য না আছে সহায়তা নেওয়ার উপায়। এমতাবস্থায় শ্রেণিকক্ষের সময়টিই তাদের পাঠ গ্রহনের একমাত্র সময়। কিন্তু দুই শিফটের বিদ্যালয়গুলো মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করণে এক শিফটে পরিচালিত বিদ্যালয়গুলো থেকে অনেক পিছিয়ে।
৭। কারিকুলাম সম্পর্কে শিক্ষকের জ্ঞানের অপ্রতুলতাঃ কারিকুলাম সম্পর্কে অস্পষ্টতা থাকলে কারিকুলাম ডেসিমিনেশন সম্ভব হবে না। এজন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণে কারিকুলামের ধারণা স্পষ্টিকরণের পাশাপাশি শিক্ষকদের কর্তব্যপরায়ন হতে মটিভেট করতে হবে।
৮। শিক্ষকদের প্রশ্নপত্র প্রণয়নে অদক্ষতাঃ শিক্ষকগণ পাঠদান করেন ঠিকই কিন্তু প্রশ্নপত্র প্রণয়নে সরাসরি জড়িত না থাকায় প্রশ্নপত্রের কাঠামো সম্পর্কে অনেকেরই ধারণা থাকেনা। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন একদিকে যেমন শিক্ষকের প্রশ্নের কাঠামো জানতে সাহায্য করে অপরদিকে তেমনি তারা বিষয় জ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়।
৯। শিক্ষকদের পাঠ্যাভ্যাসে অনীহাঃ পাঠদান বহির্ভূত কাজে শিক্ষকদের সম্পৃক্ত করায় শিক্ষকদের পাঠ্যাভ্যাসের প্রতি আগ্রহ হারায়।।
১০। আইসিটিতে দক্ষ শিক্ষকের অপ্রতুলতাঃ সরকারের গৃহীত ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের অংশ হিসেবে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনার জন্য দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ, মাল্টিমিডিয়াসহ প্রয়োজনীয় আইসিটি পণ্য সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু আইসিটিতে দক্ষ শিক্ষকের অপ্রতুলতায় পণ্যগুলো যথাযথ ব্যবহার করা হচ্ছে না।
১১। শিক্ষকস্বল্পতাঃ বিদ্যালয়গুলোতে ১ম থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিদিন ২৪টি বিষয়সহ সংগীত, চারুকারু, শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে পাঠদান করা হয়। অপরদিকে সকাল ৯.০০/৯.৩০ টা হতে ১১.৩০ পর্যন্ত প্রাক-প্রাথমিকের পাঠ পরিচালনা করতে হয়। সকাল ৯.০০টা হতে ৩.৩০/৪.১৫ টা পর্যন্ত একজন শিক্ষককে গড়ে ৬ থেকে ৭ টি বিষয়ে পাঠদান করতে হয়। এই দীর্ঘ সময়ে একজন শিক্ষকের পক্ষে সকল বিষয়ে মানসম্মত পাঠদান করা দুরুহ বলে মনে করি। এমতাবস্থায় প্রতিটি বিদ্যালয়ে কমপক্ষে ৭ জন শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করে বিদ্যালয়গুলোকে এক শিফটে পরিনত করলে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত হবে এতে কোন সন্দেহ নাই।
১২। পাঠ পরিকল্পনাভিত্তিক পাঠদান পরিচালনা না করাঃ শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য পরিকল্পিত পাঠদানের বিকল্প নাই। কিন্তু বিদ্যালয়গুলোতে পাঠ পরিকল্পনা মোতাবেক পাঠদানের হার খুবই কম।
১৩। কোভিড-১৯ কালীন শিক্ষার্থীদের যথাযথ মনিটরিং-এর ব্যবস্থা না থাকাঃ কোভিড কালীন রেডি, টিভি ও অনলাইনভিত্তিক পাঠদানে সুনির্দিষ্ট মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি প্রকট আকার ধারণ করে।
১৪। শিক্ষকদের বেতন তুলনা মূলক কম থাকায় শিক্ষাদানের তুলনায় অন্যান্য কাজে সম্পৃক্ত থাকা। ফলে মানসম্মত শিক্ষাদান সম্ভব হচ্ছে না।

শিক্ষার্থীঃ
১। অনিয়মিত উপস্থিতিঃ শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার প্রধান অন্তরায়। বিশেষ করে কোভিড-১৯ পরবর্তী আনুষ্ঠানিক পাঠদান শুরু হলেও শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি শিখনঘাটতি পূরণে শিক্ষকদের যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে। এমতাবস্থায় শিক্ষকদের নিয়মিত হোমভিজিটের উপর জোর দেওয়া একান্ত জরুরি।
২। অভিভাবকদের অসচেতনতাঃ তৃণমূল পর্যায়ে অভিভাবকদের অসচেতনতা মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা অন্যতম বাধা। অভিভাবকগণ শিক্ষার গুরুত্ব না বুঝলেও দারিদ্রতার কারণে আর্থিক গুরুত্বটা বেশ ভালো বুঝেন। তাই তারা তাদের সন্তানদের বিভিন্ন কায়িক শ্রমে নিয়োজিত করেন।
৩। অভিভাবকদের কেজি স্কুল প্রীতিঃ প্রাথমিক শিক্ষার শিক্ষক্রম অনেক গবেষণার ফল। যে বয়সে যতটুকু শিক্ষার প্রয়োজন সে বয়সে ততটুকু শিক্ষা নিশ্চিত করা বাঞ্চণীয়। কিন্তু তথা কথিত সচেতন কিংবা বিত্তবান অভিভাবকরা কেজি স্কুলের মাধ্যমে সন্তানদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে বইয়ের পাহাড়। ফলে শিক্ষার্থীরা সৃজণশীল চিন্তার চেয়ে মুখস্থ নির্ভর হয়ে পড়ছে।
৪। কোভিড-১৯ কালীন অনুষ্ঠানিক মূল্যায়নঃ কোভিড কালীন আনুষ্ঠানিক মুল্যায়ন নাথাকায় শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি যাচাই বা শিখন অগ্রগতি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে অজানাই থেকে যায় শিক্ষার্থীর কৃতিত্ব। যা মানসম্মত শিক্ষার অন্যতম অন্তরায়।
৫। কোভিড-১৯ কালীন পরিচালিত অনলাইনভিত্তিক/ রেডিও/ টিভিতে সম্প্রচারিত ক্লাসে অংশগ্রহন না করাঃ
কোভিড কালীন আনুষ্ঠানিক পাঠদান বন্ধ থাকায় সরকারি সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে শুরু হয় রেডি, টিভি ও অনলাইনভিত্তিক পাঠদান। কিন্তু তৃণমূল পর্যায়ে কাঙ্খিত মানের সুযোগ-সুবিধা না থাকায় শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ পাঠদানের বাহিরেই থেকে যায়।
৬। কোভিড-১৯ কালীন ওয়ার্কসিটভিত্তিক কাজঃ কোভিড-১৯ এর সংক্রমন কালে শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি হ্রাস করার জন্য শিক্ষার্থীদের ওয়ার্কসিটভিত্তিক কাজ প্রদান করা হয়। কিন্তু অভিভাবকদের অসচেতনতা, শিক্ষকের মনিটরিং-এর অভাব এবং শিক্ষার্থীদের স্বভাবসুলভ অবহেলা প্রদর্শণ শিখন ঘাটতি হ্রাসকরণে ব্যর্থ হয়।
০৭। অভিভাবকদের প্রাইভেট, হোম টিউটর প্রতি আগ্রহ থাকা: বিদ্যালয়ে পাঠদান হয় না। অভিভাবকদের এই ধারণার কারনে প্রাইভেট, হোম টিউটর এ প্রতি প্রবল আগ্রহ থাকা।

শ্রেণিকক্ষ/ অবকাঠামোগতঃ
১। শ্রেণিকক্ষের অপ্রতুলতাঃ পাঠদান আর শ্রেণিকক্ষ একে অপরের উপর নির্ভরশীল । পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ ও সুসজ্জিত শ্রেণিকক্ষের অভাবে নিরানন্দ পরিবেশে অধিকাংশ বিদ্যালয়ে পাঠদান পরিচালনা করা হয়। ফলে শিক্ষার্থীদের
২। নিরানন্দ পরিবেশ। পাঠদান একটি বিমূর্ত ধারণা। মূর্ত ধারণার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিমূর্ত ধারণায় নিয়ে যাওয়ার জন্য শিখন পরিবেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। শিখন পরিবেশ হবে ভীতিহীন আর আনন্দমূখর। কিন্তু অধিকাংশ স্কুলে এধরণের পরিবেশ না থাকায় শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি কিংবা ঝরে পড়ার হার বৃদ্ধি পায়। এমতাবস্থায় বিদ্যালয়গুলোর পরিবেশকে আনন্দমূখর করার জন্য বস্তুনিষ্ঠ পরিকল্পনা গ্রহন করতে হবে।
৩। অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মাণঃ অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় ভবনগুলো অপরিকল্পিত ভাবে নির্মান করা হচ্ছে। সীমানা চিহ্নিতকরণ ছাড়াই তারাহুড়ো করে যেখানে সেখানে ভবন নির্মান করা হয়। এতে সঙ্কুচিত হচ্ছে শিশুদের খেলার মাঠ।
৪। শ্রেণিকক্ষে আসবাবপত্রের অপ্রতুলতাঃ শ্রেণিকক্ষের আসবাব পত্রের যথেষ্ট ঘাটতি আছে। এছাড়াও বিদ্যমান আসবাবপত্রগুলো শিশুবান্ধব নয়। ফলে শিক্ষার্থীরা বসতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেনা ।
৫। স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগারের অপ্রতুলতাঃ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগারের যথেষ্ট অভাব। কিছুকিছু বিদ্যালয়ে আধুনিক সুবিধাসম্বলিত শৌচাগার নির্মিত হলেও অধিকাংশ বিদ্যালয়েই ছাত্র/ছাত্রী বা শিক্ষক/ শিক্ষকার জন্য নাই কোন আলাদা শৌচাগার।
৬। ভবন/ বিদ্যালয়ের সম্পদ রক্ষায় স্থানীয়দের উদাসীনতাঃ স্থানীয় গণ্যমান্য এবং দাতাদের সহায়তায় প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো প্রতিষ্ঠিত হলেও জাতীয়করণের পর তারা বিদ্যালয়গুলোর রক্ষণাবেক্ষণে উদাসীন হয়ে পড়েন। তারা মনে করেন প্রতষ্ঠান যেহেতু সরকারের দেখাশোনার দায়িত্বও তাই সরকারের। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে শিক্ষকদের উদাসীনতার করণেও স্থানীয় জনগণ বিদ্যালয়মূখি হননা।
০৭। শিক্ষা সামগ্রী বিজ্ঞানভিত্তিক সামগ্রীর অভাব।

সম্ভাবনাঃ
১। প্রায় ১০০ভাগ প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণের আওতায় আনা হয়েছে।
২। বিদ্যালয়বিহীন গ্রামের সংখ্যা প্রায় নাই বললেই চলে।
৩। সি-ইন-এড প্রশিক্ষণকে ডিপিএড-এ উন্নিত করা
৪। একাডেমিক ও প্রশাসনিক মনিটরিং-এর জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক কর্তৃপক্ষ বিদ্যমান।
৫। প্রধান শিক্ষকের গ্রেড উন্নয়ন।
৬। বিদ্যালয়ের শিখন-শেখানো কার্যাবলি পরিচালনায় স্লিপ গ্রান্ড প্রদান।
৭। প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের আনন্দের সাথে পাঠগ্রহনের নিমিত্তে প্রাক-প্রাথমিকের জন্য প্রতি বছর আলাদা বরাদ্দ প্রদান।
৮। বিদ্যালয়গুলোতে দপ্তরি-কাম-প্রহরী নিয়োগ চলমান।
৯। প্রতিটি বিদ্যালয়ে আইসিটি সামগ্রী নিশ্চিত করা হয়েছে।
১০। প্রতিটি বিদ্যালয়ে অন্তত পক্ষে একজন করে আইসিটিতে দক্ষ শিক্ষক নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
১১। অধিকাংশ বিদ্যালয়ে ইন্টারনেট/ ওয়াইফাই সংযোগ প্রদান করা হয়েছে।
১২। স্ব-স্ব বিদ্যালয়ে প্রশ্নপত্র প্রণয়নে পরিপত্র বাস্তবায়ন হচ্ছে।
১৩। ১০০% শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি, কিট এলাউন্স প্রদান করা হচ্ছে।
১৪। বহুতল ভবন ও আধুনিক ওয়াশব্লকের কাজ চলমান।
১৫। শিশুদের নিরাপত্তায় সীমানা প্রাচীর ও দৃষ্টিনন্দন তোরণ নির্মাণের কাজ চলমান।
১৬। শিক্ষক- শিক্ষার্থীসহ সকল জনগোষ্ঠিকে কোভিড-১৯ ভেক্সিনের আওতায় আনয়ন।
১৭। প্রাক-প্রাথমিকের জন্য পৃথক শিক্ষক নিয়োগ।
১৮। শিক্ষা অফিসের পাশাপাশি উপজেলা রিসোর্স সেন্টার স্থাপন।
১৯। প্রায় ১০০ভাগ প্রাথমিক বিদ্যালয়কে বিদ্যুতের আওতায় আনয়ন।
২০। দুই বছর মেয়াদী প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালুকরণ (২০২৩ সাল হতে চালু হওয়ার সম্ভাবনা আছে)
২১। প্রতিটি বিদ্যালয়ে দৃষ্টিনন্দন পতাকাবেদী ও শহিদ মিনার নির্মাণের কাজ চলমান।
২২। বছরের শুরুতে ( ১ জানুয়ারি) শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই প্রদানের মাধ্যমে বই উৎসব পালন।
২৩। আন্তঃ প্রাথমিক বিদ্যালয় ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন।
২৪। একীভূত শিক্ষা প্রবর্তন।
২৬। কাবিং কার্যক্রম।
২৭। অভ্যন্তরীন প্রশিক্ষণের পাশাপাশি শিক্ষক ও কর্মকর্তাগণের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ প্রদান।
২৮। সার্বজনীন, বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন।
২৯। প্রাথমিক শিক্ষার জন্য স্বতন্ত্র শিক্ষাবোর্ড ( নেপ) স্থাপন।
উল্লেখিত সমস্যাগুলো সমাধানের উদ্যোগ গ্রহন এবং সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগালে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে খুব একটা বেগ পেতে হবে না।

(মো: মাহবুব হাসান)
উপজেলা নির্বাহী অফিসার
জলঢাকা, নীলফামারী।

নিউজবিজয়/এফএইচএন