1. fhn.faruk@gmail.com : admin2020 :
  2. newsbdn.bd@gmail.com : faruk2021 : faruk2021 fahim
  3. newsbijoy.bd@gmail.com : news bijoy : news bijoy
দিনাজপুরের বিরলে মহাধুমধামে ৯২ বছর বয়সী বর ও ৮০ বছর বয়সী কন্যার পুন: বিবাহ - NewsBijoy
রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১, ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন

ভাষা আন্দোলনের ৬৯ বছর

নিউজবিজয় এখন তিন ভাষায় পড়ুন – NewsBijoy Now Read in Three Languages


দিনাজপুরের বিরলে মহাধুমধামে ৯২ বছর বয়সী বর ও ৮০ বছর বয়সী কন্যার পুন: বিবাহ

মোঃ সিদ্দিক হোসেন, দিনাজপুর প্রতিনিধি:-
  • প্রকাশিত সময় :- বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
ছবি: নিউজবিজয়.কম

দিনাজপুরের বিরলের বৈদ্যনাথ দেবশর্মার বিয়ে হয়েছিল প্রায় ৭৪ বছর আগে। তার একমাত্র কন্যা ঝিলকো বালার ৩ ছেলে ও ৫ মেয়ে। প্রথম মেয়ে আদুরী রানী দেবশর্মার এক ছেলে এক মেয়ে। দ্বিতীয় মেয়ে যমুনা রানী দেবশর্মার ৩ ছেলে, তৃতীয় মেয়ে কুশলী রানী দেবশর্মার ২ মেয়ে, চতুর্থ মেয়ে পূর্নিমা রানী দেবশর্মার এক ছেলে ও এক মেয়ে এবং প ম মেয়ে লক্ষ্মী রানী দেবশর্মার এক ছেলে ও এক মেয়ে। তাদের ঘরেও আবার ছেলে-মেয়ে হয়েছে। অর্থাৎ বিয়ের পাঁচ সিড়ি অতিক্রম করেছেন বৈদ্যনাথ দেবশর্মা। তাদের ধর্মে প্রচলিত আছে যদি বিবাহের পর প ম সিড়ি (প্রজন্ম)উর্ত্তীণ হয় তাহলে পুন:বিবাহের আয়োজন করতে হয়। আর এই রীতিকে মেনে ৯২ বছর বয়সী বৈদ্যনাথ দেবশর্মার বিয়ে হলো মহাধুমধামে। অবশ্য কন্যা তারই বিয়ে করা স্ত্রী প বালা দেবশর্মা।

No description available.
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৈদ্যনাথ দেবশর্মার বয়স যখন ১৮ তখন তার বাবা স্বর্গীয় ভেলশু দেবশর্মা একই এলাকার স্বর্গীয় বিদ্যামন্ডল দেবশর্মার বাবার হাতে ১৩ টাকার তুলে দিয়ে ঘরে তুলে আনেন ৮ বছর বয়সী নববধু প বালা দেবশর্মাকে। এখন ওই বিয়ের ৭৪ বছর হয়েছে। ১৮ বছরের বৈদ্যনাথ দেবশর্মার বয়স ৯২ বছর আর প বালা দেবশর্মার বয়স ৮০ পেরিয়েছে। এই ৭৪ বছরে তাদের একমাত্র মেয়ের বিয়ের পর সন্তান-নাতি-নাতনি এবং তাদের ঘরের সন্তান মিলে পাঁচ সিড়ি পেরিয়েছে। তাদের বংশের রেওয়াজ আছে যদি কারও পাঁচ সিড়ি দেখার সৌভাগ্য হয় তাহলে ভগবানের তুষ্টির জন্য পুন:বিবাহের আয়োজন করতে হয়। আর সেই মোতাবেক গত এক মাস ধরেই চলছিল এই প্রবীনদের পুন:বিবাহের আয়োজন। অবশেষে গত রোববার পঞ্জিকামতে বিবাহলগ্নে পুন:বিবাহ সম্পন্ন হয় বর বৈদ্যনাথ দেবশর্মা ও কনে প বালা দেবশর্মার। সত্যনারায়ন পূজা, অধিবাস, বরানুগমনসহ সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা ছিল বিয়েতে, আর এমন বিয়েকে ঘিরে আনন্দও কম ছিল না।
কৃষি পেশায় নিয়োজিত বৈদ্যনাথ ১৯৭২ সাল থেকে ৮৬ সাল পর্যন্ত স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত সদস্যও ছিলেন। মেয়েকে বিয়ে দেয়ার পর ৮ নাতি-নাতনি হয়েছে এবং তাদের ঘরে ১৯ জন সদস্য। এখন তার পিড়ির মোট সদস্য সংখ্যা ৫৪জন।
এই বর ও কনের বিয়ে হয়েছিল খুব ছোট থাকা অবস্থায়, তাই এমন বিয়েতে আনন্দিত তারাও। বর বৈদ্যনাথ দেবশর্মা বলেন, ১৩ টাকা পন দিয়ে প বালার সাথে বিয়ে হয়েছিল আমার। বিট্রিশদের সময়ে তখন এমন ধুমধাম ছিল না, এখন যে বিয়ে হলো এখন পর্যন্ত যে আনন্দ পাচ্ছি তা বলার মত নয়। আমার নাতি-নাতনিরা যা করেছে তা বলার মত নয়। তবে ওই সময়ে বিয়ে হওয়ার এত বছরেও আমার স্ত্রীর গায়ে কখনও হাত তুলিনি। একবার হাত তুলেছিলাম, আর তখন মায়ের হাতে আমাকে মার খেতে হয়েছিল। এরপর কখনও আমি তাকে একদিনের জন্যও ছাড়িনি। আমি গয়া, কাশি, বৃন্দাবন, আগ্রা, ব্রহ্মপুত্রসহ বিভিন্ন তীর্থস্থানে গিয়েছি তাকে নিয়ে।
স্ত্রী প বালা দেবশর্মা বলেন, আমার যখন বিয়ে হয়েছে তখন আমি কিছুই বলতে পারি না। এখন আবার নাতি-পুতিরা বিয়ে দিলো। আমার স্বামী আমাকে অনেক ভালোবাসে, তাকে ছাড়া আমি থাকতে পারি না আমাকে ছাড়াও সে থাকতে পারে না। এই আয়োজনের আগে বলছিলাম এই বিয়ে কেমন করে হবে, আর এখন আমাকে খুব ভাল লাগছে।
তাদের একমাত্র কন্যা ঝিলকো বালা বলেন, এই আয়োজনে আমরা আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব সবাইকে আমন্ত্রন জানিয়েছি, সবাই এসেছেন। এটা মুলত মঙ্গল ও পরিবারের ভালর জন্য করেছি। আমরা যেন ভালোভাবে থাকতে পারি, ঈশ^রের কাছে এই প্রার্থনা।
বিয়ের আয়োজনের মূল উদ্যোক্তা নাতি ফটিক চন্দ্র সরকার বলেন, এক মাস আগে এই আলোচনা করি। পরে পরিবারের সদস্যরা একমত হলে এই বিয়ের আয়োজন করি। এর আগে আমরা ধর্মীয় রীতিনীতির বিষয়গুলো নিয়ে পুরোহিতের সাথে কথা বলেছি। আমার দাদুর পাঁচ পিড়ি পার হয়ে গেছে। আমরা তার নাতি, আবার আমাদেরও নাতি হয়েছে। বিয়েতে অনেক লোকসমাগম হয়েছিল।
এই বিয়েতে বর ও কনের সন্তান, তাদের নাতি-নাতনি মিলে ৪ প্রজন্মের আত্মীয়-স্বজনসহ অংশগ্রহন করেন আশেপাশের প্রতিবেশিরাও। আবার বৃদ্ধ-বৃদ্ধার বিয়ে বলে আনন্দের কমতি ছিল না নতুন প্রজন্মের কাছে।
কাহারোল উপজেলা থেকে আসা আত্মীয় লিপা রানী দেবশর্মা বলেন, এখানে এসে খুব আনন্দ উপভোগ করেছি। আমার জীবনে প্রথম এমন আয়োজন দেখলাম। নেচে-গেয়ে আমি আনন্দে ভাগিদার হয়েছি।
বৈদ্যনাথের পুঁতি কবিতা দেব (১৪) ও লাভলী রানী (১৬) বলেন, আগে আমরা জানতাম না যে পাঁচপিড়ি পার হলে আবারও বিয়ে ও মালাবদল হয়। এই অনুষ্ঠান দেখে আমাকে খুব ভাল লেগেছে। আমার জীবনে প্রথম এমন আয়োজন শুনছি, এবং দেখলাম।
বিবাহ কাজে পুরোহিতের দায়িত্বে মহাদেব ভট্টাচার্য বলেন, এর আগে এমন বিয়ে দেখিনি। তবে তারা যে এমন আয়োজন করেছেন তা সত্যিই আনন্দের। আর এমন আয়োজন হলে মঙ্গল হয় ধর্মীয় এমন বিশ^াস থেকে তারা যে আয়োজন করেছে তাতে বোঝাই যায় যে তাদের পরিবারের মধ্যে ভালোবাসা কতটুকু। শাস্ত্রে এমন কথা উল্লেখ না থাকলেও লোকাচারে রয়েছে বলে জানান তিনি।

এখানে দেশ-বিদেশের অভ্যন্তরীণ বিমানের টিকিটসহ আকাশ পাওয়া যাচ্ছে:- উর্মি টেলিকম,আনন্দ মার্কেট হাতীবান্ধা,লালমনিরহাট। ফোন: ০১৭১৩৬৩৬৬৬১

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন নিউজবিজয়ে। আজই পাঠিয়ে দিন – newsbijoy.bd @gmail.com

ভালো লাগলে লাইক দিন, শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ

উৎসর্গ করলাম আমার পরম শ্রদ্ধেয় বাবার নামে, যাঁর স্নেহ-সান্নিধ্যে সমৃদ্ধ হয়ে আমি আজ নিজেকে মেলে ধরতে পেরেছি।

‘রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বাইয়ানি সাগিরা।’

করোনা ভাইরাস: পরামর্শ বা উপদেশ

এখানে দেশ-বিদেশের অভ্যন্তরীণ বিমানের টিকিটসহ আকাশ পাওয়া যাচ্ছে:- উর্মি টেলিকম,আনন্দ মার্কেট হাতীবান্ধা,লালমনিরহাট। ফোন: ০১৭১৩৬৩৬৬৬১

ইমেলের মাধ্যমে ব্লগে সাবস্ক্রাইব করুন-

সর্বশেষ সংবাদের সাথে আপডেটেড থাকতে সাবস্ক্রাইব করুন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbanewsbijo41
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी