ঢাকা ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

Up to BDT 150 Cashback on New Connection

তাপস ও পরশকে কাছে ডেকে কাঁদলেন প্রধানমন্ত্রী

newsbijoy.com

শোক দিবসের আলোচনায় ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ডের কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী।সভায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে সেদিনকার ভয়াবহ স্মৃতির বর্ণনা দেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ২ ভাই শেখ ফজলে শামস পরশ ও শেখ ফজলে নুর তাপসকে মঞ্চে আসতে বলেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের আদরমাখা কণ্ঠে বলেন ‘আয় আমার কাছে আয়’ ।এ সময় দুই ভাই মঞ্চে এসে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে।তখন পুরো সভাস্থলে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রীর পা ছুঁয়ে সালাম করে পরশ। তাদের উদ্দেশ্যে কাঁদতে কাঁদতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে ওরা বড় হয়ে গেছে, পাঁচ বছরের পরশ, তিন বছরের তাপস; বাবা মার লাশ গুলি খেয়ে পড়ে আছে। ২টি বাচ্চা পাশে গিয়ে চিৎকার করছে বাবা উঠ, বাবা উঠ, মা উঠ উঠ কিন্তু কেউ সাড়া দেয়নি। মঙ্গলবার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত শোক দিবসের আলোচনায় শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি তার মেলিটারি সেক্রেটারি কর্নেল জামিল যিনি ছুটে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতিকে বাঁচাতে কিন্তু পারেননি। তাকেও ঘাতকেরা নির্মমভাবে হত্যা করেছে। তিনি বলেন, তারা যে শুধু একটা বাড়িতেই হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল তা নয়, একই সাথে তারা হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল আমার সেজ ফুফুর বাসা, যেখানে আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ১৩ বছরের মেয়ে বেবি, ১০ বছরের ছেলে আরিফ এবং ৪ বছরের নাতি সুকান্ত,একজন আত্মীয় রেন্টু ও বাড়ির কাজের লোকসহ সেখানে তাদেরকেও নির্মমভাবে হত্যা করেছে ঘাতকরা। হত্যাকাণ্ড চালায় আমার সেজ ফুফুর বাড়ি শেখ ফজলুল হক মনি মুক্তিযোদ্ধা এবং তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি (আরজু আমার সেজ ফুফুরই মেয়ে)তাদেরকে ও নির্মমভাবে হত্যা করে।ঘাতকের দল তিনটি বাড়িতে আক্রমণ চালায়।এমনকি আমার ছোট ফুফুর বাড়িতেও তারা গিয়েছিল। ১৫ আগস্ট, এই হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশে ঘটেছে। কী নিষ্ঠুর নির্মম ঘটনা ঘটেছে আপনারা একবার চিন্তা করে দেখুন। আর সেই হত্যার পর বিচার চাওয়ার কোনও অধিকার ছিল না আমাদের।মামলা করার অধিকার ছিল না।আমি আর রেহানা বিদেশে ছিলাম, সেজন্য বোধহয় বেঁচে গিয়েছিলাম।আর এই বাঁচা যে কী দুঃসহ বাঁচা সেটা শুধু ভুক্তভোগীরাই জানেন।

নিউজ বিজয়/মোঃ নজরুল ইসলাম

সকল সংবাদ পেতে ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন…

নিউজবিজয় ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

NewsBijoy

নিউজবিজয়২৪.কম একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল। বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। উৎসর্গ করলাম আমার বাবার নামে, যাঁর স্নেহ-সান্নিধ্যের পরশ পরিবারের সুখ-দু:খ,হাসি-কান্না,ব্যথা-বেদনার মাঝেও আপার শান্তিতে পরিবার তথা সমাজে মাথা উচুঁ করে নিজের অস্তিত্বকে মেলে ধরতে পেরেছি।

রানির মৃত্যুসনদে যা লেখা হয়েছে

তাপস ও পরশকে কাছে ডেকে কাঁদলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত সময়: ০৩:৫৮:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ অগাস্ট ২০২২

শোক দিবসের আলোচনায় ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ডের কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী।সভায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে সেদিনকার ভয়াবহ স্মৃতির বর্ণনা দেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ২ ভাই শেখ ফজলে শামস পরশ ও শেখ ফজলে নুর তাপসকে মঞ্চে আসতে বলেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের আদরমাখা কণ্ঠে বলেন ‘আয় আমার কাছে আয়’ ।এ সময় দুই ভাই মঞ্চে এসে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে।তখন পুরো সভাস্থলে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রীর পা ছুঁয়ে সালাম করে পরশ। তাদের উদ্দেশ্যে কাঁদতে কাঁদতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে ওরা বড় হয়ে গেছে, পাঁচ বছরের পরশ, তিন বছরের তাপস; বাবা মার লাশ গুলি খেয়ে পড়ে আছে। ২টি বাচ্চা পাশে গিয়ে চিৎকার করছে বাবা উঠ, বাবা উঠ, মা উঠ উঠ কিন্তু কেউ সাড়া দেয়নি। মঙ্গলবার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত শোক দিবসের আলোচনায় শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি তার মেলিটারি সেক্রেটারি কর্নেল জামিল যিনি ছুটে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতিকে বাঁচাতে কিন্তু পারেননি। তাকেও ঘাতকেরা নির্মমভাবে হত্যা করেছে। তিনি বলেন, তারা যে শুধু একটা বাড়িতেই হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল তা নয়, একই সাথে তারা হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল আমার সেজ ফুফুর বাসা, যেখানে আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ১৩ বছরের মেয়ে বেবি, ১০ বছরের ছেলে আরিফ এবং ৪ বছরের নাতি সুকান্ত,একজন আত্মীয় রেন্টু ও বাড়ির কাজের লোকসহ সেখানে তাদেরকেও নির্মমভাবে হত্যা করেছে ঘাতকরা। হত্যাকাণ্ড চালায় আমার সেজ ফুফুর বাড়ি শেখ ফজলুল হক মনি মুক্তিযোদ্ধা এবং তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি (আরজু আমার সেজ ফুফুরই মেয়ে)তাদেরকে ও নির্মমভাবে হত্যা করে।ঘাতকের দল তিনটি বাড়িতে আক্রমণ চালায়।এমনকি আমার ছোট ফুফুর বাড়িতেও তারা গিয়েছিল। ১৫ আগস্ট, এই হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশে ঘটেছে। কী নিষ্ঠুর নির্মম ঘটনা ঘটেছে আপনারা একবার চিন্তা করে দেখুন। আর সেই হত্যার পর বিচার চাওয়ার কোনও অধিকার ছিল না আমাদের।মামলা করার অধিকার ছিল না।আমি আর রেহানা বিদেশে ছিলাম, সেজন্য বোধহয় বেঁচে গিয়েছিলাম।আর এই বাঁচা যে কী দুঃসহ বাঁচা সেটা শুধু ভুক্তভোগীরাই জানেন।

নিউজ বিজয়/মোঃ নজরুল ইসলাম