ঢাকা ০৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

Up to BDT 150 Cashback on New Connection

কেন্দ্র সচিবসহ তিন শিক্ষক আটক

এসএসসির প্রশ্ন ফাঁস: কুড়িগ্রামে কেন্দ্র সচিবসহ গ্রেপ্তার ৩

newsbijoy.com

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে এসএসসি-২০২২ সালের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব ও প্রধান শিক্ষকসহ ওই বিদ্যালয়ের অপর দুই সহকারি শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় একজন পলাতক রয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে আসামি না করায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় চার বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ভূরুঙ্গামারী নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান, সহকারী শিক্ষক আমিনুর রহমান রাসেল ও জোবায়ের হোসাইন। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র থানায় এনে বাছাইয়ের (সর্টিং) সময় ভূরুঙ্গামারী নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের বাংলা ১ম পত্রের প্রশ্নপত্রের প্যাকেটের ভেতর বাংলা ২য় পত্র, ইংরেজি ১ম ও ২য় পত্রের প্রশ্নপত্রের একটি করে খাম ঢুকিয়ে নেওয়া হয়। সিলগালা করা প্যাকেটের ওপর স্বাক্ষর করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহমান। বাংলা ১ম পত্রের পরীক্ষার দিন থানা থেকে বাংলা ১ম পত্রের প্যাকেট এনে তা খুলে বাংলা ২য় পত্র, ইংরেজি ১ম ও ২য় পত্রের প্রশ্নের খামগুলো কৌশলে সরিয়ে ফেলা হয়। শিক্ষা বোর্ডের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী পাঠানো প্রশ্নপত্রের খাম গণনা করার নিয়ম থাকলেও কেন্দ্রের দায়িত্বরত ট্যাগ অফিসার দায়িত্ব অবহেলা করে তা করেননি। পরে ফাঁস করা প্রশ্নপত্রের উত্তরমালা তৈরি করে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিকট চুক্তির ভিত্তিতে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা মূল্যে বিক্রি করা হয়।প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নজরে এলে তারা প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেন। পরে ইংরেজি ২য় পত্র পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ায় নড়েচড়ে বসে প্রশাসন ও পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার ইংরেজি ২য় পত্র পরীক্ষার দিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপক কুমার দেব শর্মা, সহকারী পুলিশ সুপার মোর্শেদুল হাসান, ওসি আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল ভূরুঙ্গামারী নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে গণিত, কৃষি বিজ্ঞান, পদার্থ বিজ্ঞান ও রসায়ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র উদ্ধার করে। এই বিষয়গুলোর পরীক্ষা এখানো অনুষ্ঠিত হয়নি। প্রশ্নপত্র ভূরুঙ্গামারী নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমানের কক্ষে রয়েছে নিশ্চিত হয়ে তারা অভিযান চালান। পুলিশ জানতে পারে ইংরেজি ১ম পত্রের পরীক্ষার প্যাকেটে ওই প্রশ্নপত্রগুলো ঢোকানো ছিল। পরে বিকেলে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহমান ও প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমানকে থানায় আনে। রাতে প্রধান শিক্ষককে আটক করা হলেও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে ইংরেজি শিক্ষক আমিনুর রহমান রাসেল, চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক জোবায়ের হোসাইনকে আটক করা হয়। অপরদিকে বুধবার ভোরে ভূরুঙ্গামারী নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হামিদুর রহমান ও সোহেল আল মামুন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলার অপর আসামি অফিস সহকারী আবু হানিফ পলাতক রয়েছে। প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় মঙ্গলবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম, পুলিশ সুপার আল আসাদ মো. মাহফুজুল ইসলাম, দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপক কুমার দেব শর্মা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কক্ষে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা না বলে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আলমগীর হোসেন বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একজন পলাতক রয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে। আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে।’ ভূরুঙ্গামারী-কচাকাটা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোর্শেদুল হাসান বলেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও ভূরুঙ্গামারী নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের ট্যাগ অফিসার আদম মালিক চৌধুরী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।

নিউজ বিজয়/মোঃ নজরুল ইসলাম

সকল সংবাদ পেতে ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন…

নিউজবিজয় ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

NewsBijoy

নিউজবিজয়২৪.কম একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল। বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। উৎসর্গ করলাম আমার বাবার নামে, যাঁর স্নেহ-সান্নিধ্যের পরশ পরিবারের সুখ-দু:খ,হাসি-কান্না,ব্যথা-বেদনার মাঝেও আপার শান্তিতে পরিবার তথা সমাজে মাথা উচুঁ করে নিজের অস্তিত্বকে মেলে ধরতে পেরেছি।

রানির মৃত্যুসনদে যা লেখা হয়েছে

কেন্দ্র সচিবসহ তিন শিক্ষক আটক

এসএসসির প্রশ্ন ফাঁস: কুড়িগ্রামে কেন্দ্র সচিবসহ গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশিত সময়: ০১:২৬:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে এসএসসি-২০২২ সালের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব ও প্রধান শিক্ষকসহ ওই বিদ্যালয়ের অপর দুই সহকারি শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় একজন পলাতক রয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে আসামি না করায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় চার বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ভূরুঙ্গামারী নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান, সহকারী শিক্ষক আমিনুর রহমান রাসেল ও জোবায়ের হোসাইন। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র থানায় এনে বাছাইয়ের (সর্টিং) সময় ভূরুঙ্গামারী নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের বাংলা ১ম পত্রের প্রশ্নপত্রের প্যাকেটের ভেতর বাংলা ২য় পত্র, ইংরেজি ১ম ও ২য় পত্রের প্রশ্নপত্রের একটি করে খাম ঢুকিয়ে নেওয়া হয়। সিলগালা করা প্যাকেটের ওপর স্বাক্ষর করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহমান। বাংলা ১ম পত্রের পরীক্ষার দিন থানা থেকে বাংলা ১ম পত্রের প্যাকেট এনে তা খুলে বাংলা ২য় পত্র, ইংরেজি ১ম ও ২য় পত্রের প্রশ্নের খামগুলো কৌশলে সরিয়ে ফেলা হয়। শিক্ষা বোর্ডের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী পাঠানো প্রশ্নপত্রের খাম গণনা করার নিয়ম থাকলেও কেন্দ্রের দায়িত্বরত ট্যাগ অফিসার দায়িত্ব অবহেলা করে তা করেননি। পরে ফাঁস করা প্রশ্নপত্রের উত্তরমালা তৈরি করে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিকট চুক্তির ভিত্তিতে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা মূল্যে বিক্রি করা হয়।প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নজরে এলে তারা প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেন। পরে ইংরেজি ২য় পত্র পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ায় নড়েচড়ে বসে প্রশাসন ও পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার ইংরেজি ২য় পত্র পরীক্ষার দিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপক কুমার দেব শর্মা, সহকারী পুলিশ সুপার মোর্শেদুল হাসান, ওসি আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল ভূরুঙ্গামারী নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে গণিত, কৃষি বিজ্ঞান, পদার্থ বিজ্ঞান ও রসায়ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র উদ্ধার করে। এই বিষয়গুলোর পরীক্ষা এখানো অনুষ্ঠিত হয়নি। প্রশ্নপত্র ভূরুঙ্গামারী নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমানের কক্ষে রয়েছে নিশ্চিত হয়ে তারা অভিযান চালান। পুলিশ জানতে পারে ইংরেজি ১ম পত্রের পরীক্ষার প্যাকেটে ওই প্রশ্নপত্রগুলো ঢোকানো ছিল। পরে বিকেলে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহমান ও প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমানকে থানায় আনে। রাতে প্রধান শিক্ষককে আটক করা হলেও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে ইংরেজি শিক্ষক আমিনুর রহমান রাসেল, চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক জোবায়ের হোসাইনকে আটক করা হয়। অপরদিকে বুধবার ভোরে ভূরুঙ্গামারী নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হামিদুর রহমান ও সোহেল আল মামুন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলার অপর আসামি অফিস সহকারী আবু হানিফ পলাতক রয়েছে। প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় মঙ্গলবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম, পুলিশ সুপার আল আসাদ মো. মাহফুজুল ইসলাম, দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপক কুমার দেব শর্মা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কক্ষে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা না বলে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আলমগীর হোসেন বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একজন পলাতক রয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে। আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে।’ ভূরুঙ্গামারী-কচাকাটা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোর্শেদুল হাসান বলেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও ভূরুঙ্গামারী নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের ট্যাগ অফিসার আদম মালিক চৌধুরী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।

নিউজ বিজয়/মোঃ নজরুল ইসলাম