1. newsbijoy.bd@gmail.com : Faruk Hossaun : Faruk Hossaun
  2. info@newsbijoy.com : admin2022 :
  3. bashore88@gmail.com : newsbijoy22 :
উলিপুরে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের টাকা বিতরণে দূর্নীতি! নদী ভাঙ্গনে বাড়ি ভেঙে গেলেও টাকা পায়নি » NewsBijoy A Online Newspaper
শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৩:৪২ অপরাহ্ন
শিরোনাম:-
এখন থেকে নিউজ বিজয়ের সকল সংবাদ পেতে newsbijoy24.com ভিজিট করুন।

Up to BDT 150 Cashback on New Connection

উলিপুরে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের টাকা বিতরণে দূর্নীতি! নদী ভাঙ্গনে বাড়ি ভেঙে গেলেও টাকা পায়নি

এম এইচ শাহীন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ-
  • প্রকাশিত সময়: সোমবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২
NewsBijoy
print news

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে পাঠানো টাকা বিতরণে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে। একজন ইউপি সদস্য নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের টাকা না দিয়ে নদী ভাঙ্গেনি এমন সচ্ছল পরিবারের মাঝে টাকা বিতরণ করার ঘটনা ফাঁস হওয়ায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।

জানা গেছে,কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুরে সাম্প্রতিক বন্যায় নদী ভাঙ্গনের কারণে অনেকেই সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয় । তাদের কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী তার ত্রাণ তহবিল থেকে ঘর মেরামত ও আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র ক্রয়ের জন্য প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থ প্রতিটি পরিবারকে প্রকারভেদে ৬ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেন। সাহেবের আলগা ইউনিয়নেও এমন ১০২ জনের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়।
উলিপুর উপজেলা নির্বাহী প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে বরাদ্দকৃত অর্থ প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সরাসরি সুপারভিশনে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে বিতরণ করার কথা। কিন্তু উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নে তা না করে উল্টো যাদের ঘরবাড়ি ভাঙ্গেনি এবং সচ্ছল এমন ব্যাক্তিদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউ পি সদস্যরা টাকা ভাগাভাগি করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠে।
সরেজমিন গত রবিবার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভাঙ্গন কবলিত চর বাগুয়ায় গিয়ে দেখা যায়, পুরাতন ওই চরটির পশ্চিম-উত্তর দিকের ২০/২৫ টি বাড়ি সাম্প্রতিক বন্যায় সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। বর্তমানে সহায়-সম্বলহীন এসব পরিবারের ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ চরটির বিভিন্ন জায়গায় কোন রকম জোড়াতালির ঘর বানিয়ে বসবাস করছেন।কথা হয় ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ রাবেয়া বেগমের সাথে, সাংবাদিক জানতেই তার মেজাজ খারাপ, রাগান্বিত কন্ঠে বললেন, “আমাদের নদী ভাঙ্গনের ছবি তুইল্যা নিয়া যান, আর জাগোর ঘরবাড়ি ভাঙ্গেনি তাগোরে সরকার টাকা দেয়। ”
এরপর শান্ত হলে রাবেয়া জানান, মাত্র দুই মাস আগে বাড়ি নদীতে ভেঙে গেছে, পার্শ্ববর্তী গুচ্ছগ্রামে ছিলাম। মাত্র ২১দিন হয় আবার চরে অন্যের জায়গায় কোন রকম ধার-কর্জ করে জোড়াতালির ঘর তুইল্যা আছি। তিনি বন্যার সময় ১০ কেজি চাল ছাড়া সরকারি কোন সাহায্য পাননি বলে জানান। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের কোন টাকা পেয়ে-ছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, না। ”
ওই চরে সাম্প্রতিক বন্যায় ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ হাসিনা খাতুন জানান, স্বামী সরিফ উদ্দিনসহ ২ সন্তান নিয়ে অন্যের জায়গায় কোন রকম মাথা গোঁজার ঠাঁই করে আছি। প্রধানমন্ত্রীর দেয়া সাহায্য তার ভাগ্যেও জোটেনি।
কথা হয় একই চরের, রেকাত মোল্লার সাথে, তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রায় দুই থেকে আড়াই মাস হয়ে গেল নদী ভাঙ্গনে সব কিছু হারিয়েছি। এ চরেই আমার মত বিশ-বাইশটি পরিবার মাত্র তিন দিনের ব্যাবধানে সর্বস্ব হারিয়েছে। এসব পরিবার বর্তমানে চরের বিভিন্ন খানে কষ্টে কোন রকম মাথাগোঁজার ধাপরী তুলে আছে । নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ এ চরের কেউ প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের কোন সাহায্য পাননি বলে তিনি জানান । ওই চরের নদীভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত মোঃ আবদুস ছালাম, সিরাজুল হক,আঃ রশিদসহ অনেকে অভিযোগ করে বলেন, সাহেবের আলগা ৭ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আবু সায়েম নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্তদের নাম প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের টাকা বিতরণের তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দেয়া হয়েছে। নদী ভাঙ্গেনি এমন নিজস্ব লোকদের নাম মেম্বার সায়েম তালিকায় দিয়ে টাকা তুলে ভাগাভাগি করে নিয়েছে বলেও তাড়া শুনেছেন।
নদী ভাঙ্গেনি অথচ প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের সাহায্য পেয়েছেন,একই পরিবারের তিনজন মনোয়ারা বেগম স্বামী সাহাবুদ্দিন তার পুত্র মকবুল হোসেন ও মকবুল হোসেনের স্ত্রী হালিমা বেগম। এদের মধ্যে মকবুল হোসেন রংপুরে বাড়ি করে ব্যবসা করছেন। বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় অনেক দিনের পুরাতন বাড়ি তাদের।

সোনাউল্লা নামে একজন টাকা পেয়েছেন, তার বাড়িতে গিয়ে কথা হয় তার স্ত্রীর সাথে, তিনি জানান আমার স্বামী টাকা পেয়েছে কিনা জানিনা। কতদিন আগে বাড়ি করেছেন জিজ্ঞেস করতেই বললেন অনেকদিন আগে। একই রকম বাড়ির মালিক সিদ্দিক মিয়া টাকা পেয়েছেন।

শাহাদত মিয়া ১৪ বছর আগে বাড়ি করার কথা জানিয়ে বলেন, আমি ৬০০০ টাকা পেয়েছি, তবে কিসের টাকা তা জানিনা।

আবু সাঈদের বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি, তবে তার স্ত্রী স্বাধীনা বলেন, তারা ৭/৮ বছর আগ থেকে এই বাড়িতে আছেন। তিনিও নদীভাঙ্গনের টাকা পেয়েছেন।
আমির হামজা বলেন,আমি কোন টাকা পাইনি তবে এ বাড়িতে আমরা ১৪/১৫ বছর ধরে আছি। তার পিতা বর্তমানে ঢাকায় ব্যবসা করছেন। আমেনা খাতুন স্বামী আলম মিয়া জানালেন তারা ১০/১২ বছর আগ থেকে বাড়ি করে সেখানে আছেন। তিনি সরকারি সাহায্যের টাকা পাওয়ার কথা জানেন না।
সিদ্দিক মিয়া জানান, তার এ বাড়ি ৫/৬ বছর আগে করা। এবছর তার কোন বাড়ি নদীতে ভাঙ্গেনি। তিনি ৬০০০ টাকা সরকারি সাহায্যের পেয়েছেন। তবে তা নদী ভঙ্গা মানুষের জন্য কি-না আমি তা জানি না।
টাকা বিতরণে দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য আবু সায়েম অনিয়মের কথা স্বীকার করে বলেন, বাড়ি না ভাঙলেও দোকান ভেঙে যাওয়ায় টাকা দিয়েছি। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সিরাজুদ্দৌলার সাথে কথা হলে তিনি জানান, এসব তদারকির দায়িত্ব আমার নয়,তবে তালিকা অন্য কর্মকর্তার মাধ্যমে যাচাই করা হয়েছিল । সাহেবের আলগা ইউপি চেয়ারম্যান মোজাফফর হোসেন বলেন, এটা ৭নং ওয়ার্ড সদস্যের তালিকা।তারা প্রকৃত নদী ভঙ্গ কি-না তা আমার জানা নেই। উলিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপুল কুমার বলেন, এসব তালিকা চেয়ারম্যান, মেম্বারা তৈরী করেন, যদি এখানে কোন ত্রুটি ধরা পরে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজবিজয়/এফএইচএন

newsbijoy.com

আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

সকল সংবাদ পেতে ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন…

নিউজবিজয় ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

© All rights reserved © 2015-2022 NEWSBIJOY24
Developed BY NewsBijoy24.Com
themesbanewsbijo41